পুলিশ সেজে মোটরবাইক চুরি

পুলিশের নাকের ডগা থেকে চুরি-ছিনতাই তো ছিলই। এ বার পুলিশ সেজেই এক টেলিফোন বুথের কর্মীর কাছে থেকে চার হাজার টাকা এবং একটি বাইক নিয়ে বেমালুম চম্পট দিল চোরেরা। ঘটনাটি রবিবার বিকালে ঘটেছে বোলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্তের নাম আকাশ চৌধুরী। দক্ষিণ দিনাজপুর এলাকার বাসিন্দা। বিষয়টি জানাজানি হতেই, এলাকার মানুষ ওই ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০২:৩৮
Share:

পুলিশের নাকের ডগা থেকে চুরি-ছিনতাই তো ছিলই। এ বার পুলিশ সেজেই এক টেলিফোন বুথের কর্মীর কাছে থেকে চার হাজার টাকা এবং একটি বাইক নিয়ে বেমালুম চম্পট দিল চোরেরা। ঘটনাটি রবিবার বিকালে ঘটেছে বোলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্তের নাম আকাশ চৌধুরী। দক্ষিণ দিনাজপুর এলাকার বাসিন্দা। বিষয়টি জানাজানি হতেই, এলাকার মানুষ ওই ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। কিন্তু অপরাধী ধরা পড়লেও, পুলিশ সেজে ছিনতাইয়ের ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বোলপুর-শাম্তিনিকেতন শহরে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। দিনে দুপুরে ব্যাঙ্কের সামনে থেকে চুরি হয়ে যাচ্ছে। পুলিশকে জানিয়েও কোনও ফল হয়নি। এবার খোদ ‘পুলিশ’ পরিচয় দিয়েই ছিনতাই!

Advertisement

বোলপুর এবং শান্তিনিকেতন— দুটি থানা থাকতেও শহরে অপরাধ রুখতে পুলিশের ভূমিকাতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকটি ঘটনায় জেলা পুলিশকে ক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়েছে। তবু পুলিশের কোনও হেলদোল নেই। স্থানীয়দের ক্ষোভ, ‘‘পুলিশ রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে যতটা ব্যস্ত, আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে মোটেই চিন্তিত নয়।’’

এ দিন পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসস্ট্যান্ড এলাকার ওই টেলিফোন বুথের কর্মী স্থানীয় নাচনসা গ্রামের বাসিন্দা রাণা মাঝি। তাঁকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে চার হাজার টাকা এবং একটি বাইক নিয়ে যায় আকাশ নামে ওই ব্যক্তি। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই, খোঁজ শুরু হয়। দোকানের মালিক নারায়ণ সাধু বলেন, ‘‘মাঝে সাঝে আমার বুথে ফোন করতে এবং মোবাইল রিচার্জ করতে আসত এক ব্যক্তি। পুলিশ পরিচয় দিয়ে আমার কর্মী রাণার কাছে চার হাজার টাকা এবং বাইক নিয়ে পালিয়েছে খবর পেয়ে বিভিন্ন রাস্তায় খোঁজ শুরু করি। শেষে সুপুর-নিলবাজার এলাকা থেকে বাসিন্দারা তাকে আটক করে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ এবং লিখিত দিয়ে বোলপুর থানা থেকে আমি আমার গাড়ি এবং চার হাজার টাকা ফিরে পেয়েছি।’’

Advertisement

ঘটনার পর পরই বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার মানুষের দাবি, চুরি-ছিনতাই নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে কেবল কোনও সুরাহা মেলেনি তাই নয়, অভিযুক্তদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বোলপুর কালিকাপুরে বাসিন্দা গৃহবধূ অর্পিতা পাত্র, মকরমপুরের বাসিন্দা গৃহবধূ রুমকি দত্ত বলেন, ‘‘পুলিশের এমন ভূমিকায় স্বাভাবিক ভাবে প্রশাসনের উপর আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের একাংশের মদতেই দিনের পর দিন এমন ঘটনা বোলপুর- শান্তিনিকেতন এলাকায় ঘটছে। বেশ কিছু ঘটনায় অপরাধীদের পুলিশের হাতে তুলে দিলেও, তাদেরকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে আগে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। তাতেও কোনও লাভ হয়নি। এমন চললে, কী যে হবে!’’

সম্প্রতি বোলপুরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কালীবাড়ি থেকে জানালার রড ভেঙে লক্ষাধিক টাকার সোনা গয়না নিয়ে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। দরজার শিকল তুলে বাড়ি মালিককে ঘরে বন্ধ করে ঘটেছিল ওই চুরি। ওই ঘটনায় বাড়ি মালিক নারায়ণ চন্দ্র দাস লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু আজও কোনও কিনারা হয়নি। কিনারা হয়নি বোলপুরের সাত নম্বর ওয়াড়ের নিচু বাঁধগোড়া মনসাতলার বাসিন্দা প্রতিবেশী মামা-ভাগ্নের বাড়িতে চুরির ঘটনারও। কলকাতা কর্পোরেশন কর্মী মফিজুর রহমান ও তাঁর ভাগ্নে রবিউল ইসলাম লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। দুই বাড়িতে কয়েক লক্ষ টাকার সোনা দানা নগদ টাকা চুরির ঘটনারও কোনও কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। গ্রেফতারও হয়নি কেউ। শহরের বাইক ও সাইকেল চুরির ঘটনা কার্যত নিত্য দিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বাসিন্দাদের দাবি।

বোলপুর থানা লাগোয়া এলাকায় রয়েছে শান্তিনিকেতন থানা। সেই এলাকাতেও নিত্য অপরাধ ঘটে চলেছে। বিশ্বভারতীর স্নাতকস্তরের ছাত্রী অসমের বাসিন্দা সম্পূর্ণা বড়দোলাইয়ের ব্যাগ, মোবাইল, এটিএম কার্ড-সহ একাধিক জিনিস ছিনতাই হয় ২১ জুলাই। শুধু মাত্র মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাংলাদেশের বাসিন্দা বিশ্বভারতীর উদ্ভিদবিদ্যার ছাত্রীর মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে বোলপুর ভুবনডাঙার বাসিন্দা বিএসএনএলের মহিলা কর্মীর প্রভাত সরণি এলাকায় সোনাদানা ছিনতাই করে, পায়ে গুলি করার ঘটনাও ঘটেছে। কিনারা হয়নি সীমান্তপল্লির বাসিন্দা অধ্যাপক সুজিত পালের উঠোন থেকে বা নুরুল হকের রতনপল্লি বাড়ির সামনে বাইক চুরির, সীমান্তপল্লি এলাকার বাসিন্দা জগদীশ সরকার বাড়ির চুরির। দিন কয়েক আগেই বোলপুরের স্টেশন রোড় থেকে একটি বিদেশী পানীয়ের দোকানের কর্মীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ছিনতাই হয়েছে। স্থানীয়দের ক্ষোভ, ‘‘পুলিশ সেই নিধিরাম সর্দার। চুরির পর চুরি চলছেই।’’

এলাকার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সুনীল সিংহ বলেন, ‘‘সকলে চায় জীবনের নিরাপত্তা। কিন্তু হচ্ছে কই? হাট, বাজার থেকে চুরি ছিনতাই হচ্ছে। সমানে পাল্লা দিয়ে চলছে বাড়ি ও দোকান থেকে চুরির ঘটনাও।’’ এলাকার নাগরিক সমিতির পক্ষে সম্পাদক চিকিৎসক মোহিত সাহা বলেন, “আমরা দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছি, এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সুনিশ্চিত করতে। দাবি জানিয়েছি, এলাকায় পুলিশের নজরদারি এবং টহলদারি বাড়ানোর জন্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও পুলিশের সদর্থক ভূমিকা দেখতে পাইনি।” তাঁর সংযোজন, ‘‘শান্তিনিকেতন পিয়ার্সন হাসপাতালের সামনে সকাল সাড়ে নয়টায় এক সেবিকার বাড়িতে যে ভয়াবহ চুরির ঘটনা হল তা অবর্ণনীয়। আলাদা থানা হয়ে লাভ কি?’’

কী বলছেন জেলা পুলিশসুপার?

পুলিশসুপার মুকেশ কুমার এ দিন ফোন ধরেননি। এসএমএসেরও কোনও উত্তর দেননি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement