ভাসল কালর্ভাট, সেতু শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ

প্রবল বৃষ্টিতে ধুয়ে গিয়েছে কুটিডি সেতুর অস্থায়ী কালভার্ট। আপাতত পাশের নির্মীয়মাণ সেতু দিয়ে ছোট গাড়ি চলাচল করতে দেওয়া হলেও বড় গাড়ির চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন এলাকার মানুষজন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০১৫ ০০:৪৭
Share:

ক’দিন আগেও ছবিটা ছিল এ রকম। শালদোহা নদীর ভেঙে পড়া অস্থায়ী কালভার্ট। — নিজস্ব চিত্র।

প্রবল বৃষ্টিতে ধুয়ে গিয়েছে কুটিডি সেতুর অস্থায়ী কালভার্ট। আপাতত পাশের নির্মীয়মাণ সেতু দিয়ে ছোট গাড়ি চলাচল করতে দেওয়া হলেও বড় গাড়ির চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন এলাকার মানুষজন।

Advertisement

গত বুধবার রাতে ঝালদা-বাঘমুণ্ডি রাস্তার উপরে থাকা শালদোহা নদীর উপরে নির্মীয়মাণ সেতুর পাশের অস্থায়ী কালভার্ট ভেঙে যায়। তারপরেই কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এই রুটের। সমস্যার কথা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত নির্মীয়মাণ সেতু দিয়ে ছোটগাড়ির চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। পূর্ত (সড়ক) দফতরের পুরুলিয়ার নির্বাহী বাস্তুকার প্রলয় চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ঢালাইয়ের কাজ হয়ে যাওয়ায় নির্মীয়মাণ সেতুটির উপর দিয়েই আপাতত কিছু গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিকল্প সেতুটিও দ্রুত তৈরির চেষ্টা চলছে।’’

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শালদোহা নদীর উপরে এই সেতুটি ২০০৮ সালের ১০ জুলাই প্রবল বৃষ্টির তোড়ে ভেঙে যায়। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বাঘমুণ্ডি-ঝালদা রাস্তা। তারপর যান চলাচল সচল রাখতে ভাঙা সেতুর পাশে এই বিকল্প কালভার্টটি গড়ে তোলা হয়। ঝালদা ১ ব্লকের ইচাগ গ্রামের বাসিন্দা সুধন্যা মাহাতোর কথায়, ‘‘গত বুধবার মোটরবাইকে ওই কালভার্ট পার হওয়ার কিছু পরেই শুনি তা স্রোতের টানে ভেসে গিয়েছে। আমার কপাল ভাল হওয়ায় বেঁচে গিয়েছি। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় কালভার্ট পার হচ্ছিলেন অন্য এক মোটরবাইক চালক। তিনি রক্ষা পাওয়া গেলেও তাঁর মোটরবাইকটি ভেসে গিয়েছে।’’ বাসিন্দাদের প্রশ্ন, বর্ষায় খরস্রোতা এই নদীতে প্রবল স্রোত আছড়ে পড়ে। ফি বর্ষাতেই এই কালভার্ট ভেসে যায়, বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। কিন্তু এত দিনেও সেতুর কাজ কেন শেষ হল না, তা অজানা।’’

Advertisement

এই রাস্তাটি বাঘমুণ্ডির সঙ্গে ঝালদার যোগাযোগ রাখার একমাত্র রাস্তা। তা ছাড়া বাঘমুণ্ডি-সহ ওই এলাকার মানুষজন রাঁচি যাওয়ার জন্য এই রাস্তাই ব্যবহার করেন। এলাকার চাষিরাও জমির ফসল ঝাড়খণ্ডে পাঠানোর জন্য এই রাস্তার উপরেই নির্ভর করেন। স্থানীয় ইলু-জারগো গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শীলা মাহাতো বলেন, ‘‘সেতুটি না হওয়ায় প্রচুর মানুষকে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। কালর্ভাটটি ধুয়ে যাওয়ায় আরও অসুবিধায় পড়তে হয়েছে।’’ নেতাজি আশ্রম মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক গৌতম মণ্ডলের প্রশ্ন, ‘‘একটা সেতু নির্মাণ হতে এতটা সময় লাগবে কেন? এ ভাবে নড়বড়ে বিকল্প সেতুতে পারাপার করায় তো ঝুঁকি রয়েছে।’’

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পরে এই রাস্তার গুরুত্ব বুঝে ঝালদা ১ ব্লকের ইচাগ গ্রামের বাসিন্দা তথা তৎকালীন ঝালদার বিধায়ক নেপাল মাহাতো সেতু গড়তে উদ্যোগী হন। তিনি তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্তের কাছে এই রাস্তাটির গুরুত্ব বুঝিয়ে অর্থ বরাদ্দ করান। নেপালবাবুর দাবি, ‘‘২০১০ সালের ২৯ জুন এই সেতু পুননির্মাণের জন্য সরকার ২ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে। অর্থ বরাদ্দের পর দরপত্র আহ্বান-সহ নানা কাজে ২০১০ পার হয়ে যায়। কাজ শুরু হতে হতে ২০১১-র মার্চ হয়ে যায়।’’

বুধবার থেকে বাস চলাচলও ওই রুটে বন্ধ। জেলা বাসমালিক সমিতির সম্পাদক প্রতিভারঞ্জন সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘বিকল্প সেতু ভেঙে পড়ায় পুরোপুরি বন্ধ ঝালদা-বাঘমুণ্ডি রুটের বাস চলাচল। আমরা পূর্ত দফতরকে সেতু তৈরির কাজ দ্রুত করতে বলেছি।’’ নেপালবাবু বলছেন, ‘‘আমি সরকারের কাছ থেকে অর্থ বরাদ্দ করিয়েছি। কিন্তু কাজটা যাতে দ্রুত হয়, তা সংশ্লিষ্ট দফতরেরই দেখা উচিত।’’ নির্বাহী বাস্তুকার প্রলয়বাবু্ বলেন, ‘‘২০১২ সালের মধ্যেই সেতু তৈরি করার কথা ছিল। কিন্তু কিন্তু নদী-গর্ভে মাটির নীচে এক ধরনের পাথর মেলায় কাজ করতে গিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়। সে কারণেই কাজে দেরি হয়েছে।’’ জেলাশাসক তন্ময় চক্রবর্তীর আশ্বাস, ‘‘ওই সেতুর কিছু কাজ বাকি রয়েছে। আশা করছি নভেম্বরের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement