মুখোশ-মেলায় জমজমাট চাড়িদা

স্টলে স্টলে সাজানো রয়েছে নানা মুখোশ। তার কোনওটি মহিষাসুরমর্দিনী পালার দুর্গার, কোনওটি গণেশের, কোনওটি আবার কিরাত-অর্জুন পালার কিরাতের। রয়েছে ঘর সাজানোর জন্য ছোট, বড় নানা মাপের বাহারি মুখোশও। মাটি, কাগজ আর রঙে শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ পাচ্ছে পুরাণের বিভিন্ন চরিত্র।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:১৮
Share:

ঘুরে ঘুরে বিকিকিনি। চড়িদায় প্রদীপ মাহাতোর তোলা ছবি।

স্টলে স্টলে সাজানো রয়েছে নানা মুখোশ। তার কোনওটি মহিষাসুরমর্দিনী পালার দুর্গার, কোনওটি গণেশের, কোনওটি আবার কিরাত-অর্জুন পালার কিরাতের। রয়েছে ঘর সাজানোর জন্য ছোট, বড় নানা মাপের বাহারি মুখোশও। মাটি, কাগজ আর রঙে শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ পাচ্ছে পুরাণের বিভিন্ন চরিত্র। বেড়াতে আসা মানুষজন উৎসুক হয়ে ঢুঁ মারছেন সেখানে। রঙিন কাগজের পতাকা। শীতের আমেজ। ঝুমুরের সুর। বড়দিনের আগে বাঘমুন্ডির চড়িদায় হয়ে গেল জমজমাট মেলা। রবিবার ছিল তিন দিনের এই ছৌ মুখোশ মেলার শেষ দিন। উদ্যোক্তা, ছৌ মুখোশ শিল্পী সঙ্ঘ।

Advertisement

অযোধ্যা পাহাড়ের অদূরে জঙ্গলমহলের এই গ্রামের পরিচিতি গম্ভীর সিংহ মুড়ার গ্রাম হিসেবে। তাঁর ছৌ নাচের শৈলীর জন্য এই শিল্পীকে পদ্মশ্রী খেতাব দিয়েছিল ভারত সরকার। সেই গ্রামের ছৌ মুখোশ এখন পৌঁছে যায় দেশ বিদেশের নানা বাড়ির বৈঠকখানায়। এই গ্রামের বাসিন্দাদের অন্যতম প্রধান পেশা মুখোশ বানানো।

মেলা বলতে সচরাচর যে ছবিটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে, চাড়িদার এই তিন দিনের সাজ ছিল তার ব্যতিক্রম। শিল্পীদের দোকানগুলিই হয়ে উঠেছিল মেলার স্টল। সেগুলিকে সাজানো হয়েছিল বাহারি আলোয়। গ্রামের হরিমন্দিরের পাশে মঞ্চ বেঁধে. আয়োজন করা হয়েছিল ছৌ, ঝুমুর, বাউল-সহ নানা লোকগানের অনুষ্ঠানের। কোথাও আখড়ায় তৈরি হচ্ছে মুখোশ। তাবড় শিল্পীদের সঙ্গে তাতে হাত লাগিয়েছে খুদেরাও।

Advertisement

ছৌ মুখোশ শিল্পী সঙ্ঘের পক্ষ থেকে উত্তম সূত্রধর জানান, মেলায় আসা মানুষজন সামনা সামনি দেখতে পেয়েছেন কী ভাবে মুখোশগুলি তৈরি হয়। ফলে বিক্রিবাটাও ভাল হয়েছে। উত্তমবাবু জানান, মেলার আয়োজনে সঙ্ঘকে সাহায্য করেছে একটি স্বেছ্বাসেবী সংস্থা। সংস্থাটির পক্ষ থেকে নির্মাল্য রায় জানান, এ সময় প্রচুর মানুষ পুরুলিয়ায় বেড়াতে আসেন। তাঁদের পাশাপাশি শুধু এই মেলার টানেই বাইরে থেকে এসেছেন অনেকে। উত্তমবাবু জানান, সঙ্ঘের একটি ওয়েবসাইটও রয়েছে। সেখান থেকে অনলাইনেও তাঁরা মুখোশ বিক্রি করে থাকেন।

শালপাতার ঠোঙায় গরম তেলেভাজা আর মেঠো টমেটো, মুলো, বেগুনপোড়া দিয়ে মুড়ি খেয়ে পেল্লায় মুখোশ কিনে বাড়ি ফেরা। উচ্ছ্বসিত বাগুইআটির বিশ্বরূপ পাল বা টালিগঞ্জের অভিরূপ দাসরা। মুখোশ তৈরির ফাঁকে জিতেন্দ্রনাথ সূত্রধর, জন্মেঞ্জয় সূত্রধর, কিশোর সূত্রধর, গৌতম সূত্রধরেরা জানান, আর্জেন্টিনার এক পযর্টকও এসেছিলেন মেলায়। ঘুরে ঘুরে তিনি মন দিয়ে মুখোশ তৈরি দেখেছেন। শেষে মুখোশ কিনে আবার আসার ইচ্ছে প্রকাশ করে ফিরে গিয়েছেন।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, আগামী বছর ফের হবে এই মেলা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement