মা ও মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রহস্য দানা বেঁধেছে বাঁকুড়ার ভূতশহর গ্রামে। বৃহস্পতিবারের ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতা বুলারানি ঘোষ (৬৩) ও তাঁর মেয়ে মান্তু ঘোষের (৩০) দেহ উদ্ধার হয় বাড়ির পাশে মাংসের দোকানের ভিতর থেকে। এ দিন সকালে বুলারানিদেবীর ছেলে মনোহর ঘোষ ওই দোকানে ঢুকে কড়িকাঠে গলায় ফাঁস লাগিয়ে মা ও বোনকে ঝুলতে দেখে গ্রামবাসীদের জানান। পুলিশ এসে দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে পাঠায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতাদের পরিবারের তরফে কোনও অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, ওই মাংসের দোকানটি চালাতেন বুলারানিদেবীর ছেলে মনোহর। মান্তুদেবী মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। অভাব অনটনের জেরে বাড়িতে প্রায়ই ছেলে-বৌমার সঙ্গে বিবাদ বাধত বুলারানিদেবীর। বিবাদ মেটাতে গ্রামের লোকজনও দু’পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসেছে কয়েক বার। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে মনোহর বাড়িতে থাকতেন। আর বৃদ্ধা মা মেয়ে মান্তুকে নিয়ে মাংসের দোকান বাড়িতেই থাকতেন।
প্রতিবেশীদের অনেকে আবার এই ঘটনা নিছক আত্মহত্যা নাকি এর পিছনে অন্য কিছু রয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কিছু গ্রামবাসীর দাবি, “বাড়িতে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। আমরা অনেকবার দু’পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে অশান্তি মেটানোর চেষ্টা করেছি। এ দিন দু’জনকে বাড়ির উঁচু ছাদের কড়িকাঠে ঝুলতে দেখে অবাক হয়েছি। কারণ অত দূরে তাঁদের নাগাল যাওয়াটাই অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে।’’ মনোহরবাবু অবশ্য ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “বোন মানসিক রোগী ছিল। ওর চিকিৎসা চলছিল। সংসারে আর্থিক অনটন ছিল। এ সবের জেরেই মা ও বোন আত্মহত্যা করেছে বলে আমাদের মনে হয়।’’