ইন্টারনেটে পাশের খবর পেয়ে তিন পরীক্ষার্থীর বাড়িতেই খুশি উপচে পড়ছিল। কিন্তু বেশিক্ষণ তা স্থায়ী হল না। মোটরবাইকে চ়ড়ে তিন বন্ধু স্কুলে মার্কশিট আনতে যাওয়ার পথে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল দু’জনের। গুরুতর জখম আর একজন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
শুক্রবার সকালে বেলিয়াতোড়ের বনগ্রাম এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। মৃত সুমন ভুঁই (১৮), কল্যাণ মাল (১৮) ও জখম আকাশ মণ্ডল তিনজনেরই বাড়ি বনগ্রামে। পাশাপাশি বাড়িতে ওরা থাকত। তিনজনেই বেলিয়াতোড় হাইস্কুলে কলাবিভাগের ছাত্র। স্কুলে হোক বা স্কুলের বাইরে তিন ছাত্রের বন্ধুত্বই ছিল চোখে পড়ার মতো। এ দিন সকালে তিনজনে ইন্টারনেটে পাশের খবর জানতে পারে। পড়শিরা জানান, খুশিতে ছেলে কল্যাণের হাতে নিজের মোটরবাইকের চাবি তুলে দেন বাবা আকুল মাল। তিন বন্ধু সেই গাড়ি নিয়ে স্কুলে মার্কশিট আনতে বেরোয়।
গাড়ি চালাচ্ছিল সুমন। কিন্তু গ্রামের মোড়েই ঘটে গেল দুর্ঘটনা। দুর্গাপুর থেকে বাঁকুড়ামুখী দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের (এসবিএসটিসি) একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখী ধাক্কায় ছিটকে যায় ওরা। রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাতে থাকে তিনজন। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে বাঁকুড়া মেডিক্যালে পাঠায়। কিন্তু হাসপাতালের পথেই মারা যায় সুমন। আকাশ ও কল্যাণকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সেখানেই মারা যায় কল্যাণ। আকাশের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গার চোটও গুরুতর।
অন্যদিকে এই ঘটনার পরে উত্তেজিত গ্রামবাসী বাসের কাঁচ ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ। বেশ কিছুক্ষণ চলে পথ অবরোধ। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মৃত ও আহত ছাত্রের পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়েরা এসেছেন। পরিবারের লোকেরা কান্নাকাটি করছিলেন। তবে কেউ কথা বলার অবস্থায় ছিলেন না। একজন বলেন, ‘‘কী বলব? এই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার খবরে সবাই শোকে পাথর হয়ে গিয়েছি।’’ কথা বলা যায়নি সুমনের বাবা রঞ্জিত ভুঁই, আকাশের বাবা শিবু মণ্ডল ও কল্যাণের বাবা আকুল মালদের সঙ্গেও।
ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে বনগ্রামের পাশাপাশি বেলিয়াতোড় হাইস্কুলেও। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিশির মণ্ডল বলেন, “সার্বিক ভাবে আমাদের স্কুল উচ্চমাধ্যমিকে ভাল ফল করলেও ওদের মৃত্যুকে কারও মন ভাল নেই। ওদের মার্কশিটেও আমরা হাত দিতে পারিনি।’’ দুর্ঘটনার পর থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত ওই ছাত্রদের পাশে ছিলেন স্কুল পরিচালন সমিতির সম্পাদক জয়ন্ত দাস। তিনি বলেন, ‘‘হাসপাতালে বাড়ির লোকেরা এলেও ওঁরা খুব মুষড়ে পড়েছেন। কাকে কী বলে সান্ত্বনা দেব ভেবে পাচ্ছি না। খুশির দিনেই যে অন্ধকার নেমে এল ওদের পরিবারে।’’