পুরসভা চত্বরে একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চ ও প্রেক্ষাগৃহের দাবি তুলল সিউড়ির বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, সদরের পুরসভাটি শহরের মাঝে রয়েছে। ফলে সেখানে মঞ্চ ও প্রেক্ষাগৃহ হলে নাটক-সহ গান ও নাচের অনুষ্ঠান করা যাবে। শহরের বিভিন্ন নাট্যসংস্থা ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংস্থা মনে করছে, এতে শহরের নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক মহল উপকৃত হবে।
ঘটনা হল, সিউড়ির রবীন্দ্র সদনের সংস্কারে টাকা কম পড়েছে, একথা জানেন এলাকার সাংসদ শতাব্দী রায়ও। তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, “আমার সঙ্গে জেলা প্রশাসনের কথা হয়েছে। রবীন্দ্র সদন সংস্কার নিয়ে টাকার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।”
এখন সিউড়ি শহরে সংস্কৃতি মঞ্চ বলতে রবীন্দ্রসদন। শহরে বা জেলার নাট্য চর্চার একটি মুখ্য মঞ্চও এটি। অথচ, এই সদনের সংস্কার এখনও বিশ বাঁও জলে। স্থানীয়দের দাবি, সংস্কারের কারণে সেটি বন্ধ রয়েছে গত ৪ বছর ধরে। রাজ্যসভার সাংসদ সীতারাম ইয়েচুরির সাংসদ কোটার প্রায় ১ কোটি টাকার সংস্কারের কাজ হয়ে যাওয়ার পরও সংস্কার সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে গত ৪ বছর ধরে শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে হয়েছে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ সভাগৃহে। শহরের সাংস্কৃতিক দলগুলির অভিযোগ, প্রযুক্তিগত কারণে ওই সভাগৃহটি ব্যবহারের অনুপযুক্ত। কেন না, ছোট মঞ্চে নাটকের প্রায় কোনও সংলাপই শোনা যায় না।
এলাকার নাট্য পরিচালক বাবন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে এলাকার নাট্য বা সংস্কৃতি চর্চা করাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে উপযুক্ত মঞ্চ না থাকায়। শুধু শহর নয়, জেলার নানা প্রান্তের নাট্য দলগুলির নাট্যচর্চাতেও ক্ষতি হচ্ছে। আমরা চাই পুরসভাতেই একটি মঞ্চ ও প্রেক্ষাগৃহ হোক।’’ একই দাবি জানান সিউড়ির সংস্কৃতিজগতের সঙ্গে যুক্ত রজ সাহা, টুলটুল আহমেদ, অলোক ঘোষদস্তিদার প্রমুখ।
তাঁদের দাবি, বীরভূমের অন্য ৪টি পুরসভায় এক ও একাধিক মঞ্চ ও প্রেক্ষাগৃহ রয়েছে। অথচ সিউড়ি পুরসভা কর্তৃপক্ষের কোনও উদ্যোগ নেই। আমরা চাই সিউড়ি পুরসভা চত্বরে অন্তত একটি ছোট মাপের সাংস্কৃতিক মঞ্চ ও প্রেক্ষাগৃহ গড়ে উঠুক। সিউড়ি পুরসভার পুরপিতা উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা চেষ্টা করছি পুরসভা চত্বরে একটি মঞ্চ ও প্রেক্ষাগৃহ গড়ে তোলার।’’
সিউড়ির সাংস্কৃতিক কর্মীদের দাবি প্রসঙ্গে শতাব্দীদেবীর বক্তব্য, “শহরের মধ্যে একটি ছোট সাংস্কৃতিক মঞ্চ ও প্রেক্ষাগৃহ হলে ভালই হয়। কিন্তু এ ব্যাপারে, সাংস্কৃতিক কর্মীদের এগিয়ে আসতে হবে। তাঁরা যদি আমার কাছে আবেদন জানান, আমি সাধ্যমতে চেষ্টা করব।”