—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা নন্দীগ্রামের দু’টি ব্লকেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে গত ১৫ দিন চলছে ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির। নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে সেই সেই শিবির থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে রেয়াপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে এক সদ্যোজাতের মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠল বুধবার রাতে। ঘটনায় সরব বিরোধীরা।
রেয়াপাড়া হাসপাতালে বুধবারই ভর্তি হন অন্তঃসত্ত্বা গার্গী মাইতি। শাশুড়ি সবিতা মাইতির অভিযোগ, “রাতে বৌমা যখন প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছে, কোনও ডাক্তারকে ত্রিসীমানায় দেখা যায়নি। এক নার্স ঘুমোচ্ছিলেন। ডাকলেও আসেননি। গর্ভস্থ সন্তান ততক্ষণে মায়ের শরীর থেকে বেশ কিছুটা বেরিয়ে এসেছিল! তাকে টেনে বার করি।”
সবিতার আরও অভিযোগ, “সদ্যোজাত কাশছিল। নার্স তাকে কোলে নিয়ে পিঠে চাপড় মারেন। কিন্তু কয়েক মিনিট পরে বাচ্চাটা মারা যায়।” ঘটনায় মৃতের পরিবারের তরফে চিকিৎসায় গাফিলতির লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে। নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য-জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসিতকুমার দেওয়ান বলেন, “তদন্ত কমিটি হয়েছে। রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।”
অভিষেকের ‘সেবাশ্রয়’ আদতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি আরও স্পষ্ট করেছে বলে গোড়া থেকেই দাবি করছে বিরোধীরা। বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি প্রলয় পাল বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো কোটি টাকা খরচ করে শিবির করছেন। অথচ, সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হেলদোল নেই।” সিপিএমের এরিয়া কমিটির সম্পাদক মহাদেব ভুঁইয়ারও বক্তব্য, “নন্দীগ্রামের মানুষ ভাল নেই বলেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সেবাশ্রয়’ চালু করতে হয়েছে।” নন্দীগ্রাম থেকে নির্বাচিত তৃণমূল জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শেখ শামসুল ইসলাম বলেন, “দুঃখজনক ঘটনা। পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বলা হয়েছে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে