সুপ্রিম কোর্টে চলছে আইপ্যাক মামলার শুনানি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আইপ্যাক মামলায় রাজ্য পুলিশের ডিজিকেও পার্টি বা পক্ষ করেছিল ইডি। তখন রাজ্য পুলিশের ডিজি ছিলেন রাজীব কুমার। তাঁর হয়ে আদালতে সওয়াল করছেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি।
বিচারপতি মিশ্র বলেন, “আদালত কোনও রাজনৈতিক দলকে জেতাতে চায় না। আবার আমরা কোনও অন্যায় বা অপরাধের অংশীদারও হতে চাই না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও নির্দিষ্ট সময় নেই।”
সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানিতে সওয়াল করকে উঠে কল্যাণ বলেন, “অনেক বছর আগে জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, নির্বাচনের সময় আদালত এই ধরনের মামলা থেকে দূরে থাকবে।” বিচারপতি মিশ্র কল্যাণের উদ্দেশে বলেন, “আমরাও নির্বাচনকে দূরে রাখব, আর অপরাধীদেরও। নির্বাচন আমাদের কাছে কোনও সময় নয়। আদালতের সময় নিয়ে কথা বলবেন না। আপনি ঠিক করতে পারেন না। এই ধরনের কথা বলবেন না। আপনি কী ভাবে এটা বলতে পারেন? আমরা আপনাকে এই সব বলার জন্য অনুমতি দিতে পারি না।”
বফর্স মামলার উদাহরণ দেওয়ার সময় কল্যাণের উদ্দেশে বিচারপতি মিশ্র বলেন, “আপনার কি বফর্স লাগবে প্রতিপক্ষকে বুলডোজ করার জন্য?”
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বিচারপতি মিশ্র বলেন, “কেন্দ্র ও রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে। ধরুন, ২০৩০ বা ২০৩১ সালে অন্য কোনও দলের মুখ্যমন্ত্রী এমন কাজ করেন, আর তখন আপনার দল কেন্দ্রীয় সরকারে থাকে, তখন আপনার প্রতিক্রিয়া কী হবে?” কল্যাণের উদ্দেশে বিচারপতির প্রশ্ন, “মামলা দায়ের করার সময় আপনারা কি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে করেছিলেন? (ইডির) আধিকারিকদের বিরুদ্ধেই তো মামলা করেছিলেন।”
সিব্বল বলেন, “ইডি নিজেই একটি শক্তিশালী সংস্থা। যারা অন্যদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করে। তাই তারা বলতে পারে না আমরা অসহায়।”
বিচারপতি মিশ্র সিব্বলের উদ্দেশে বলেন, “আপনার মতে ইডি অসহায় বা বঞ্চিত নয়?”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, “আদালতের উচিত নয় কোনও অভিযোগকে সত্য ঘটনা হিসেবে ধরে নেওয়া এবং তার ভিত্তিতে কোনও রিট পিটিশন গ্রহণ করা। কারণ, এখনও অভিযোগের তদন্ত হয়নি।”