এসআইআর শুনানি নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
এসআইআর-এ ভোটারদের ‘হয়রানি’ সংক্রান্ত প্রশ্ন শুনে এ বার পাল্টা প্রশ্ন তুললেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। কোন কাজ হয়রানি ছাড়া হয়? প্রশ্ন করলেন সুকান্ত। এসআইআরের শুনানিতে হাজিরা দেওয়াকে ‘হয়রানি’ বলে মনে হলে ভোট দিতে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোও কি ‘হয়রানি’ নয়? প্রশ্ন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির। ‘হয়রানি’ সহ্য না-হলে নির্বাচন বন্ধ রেখে প্রত্যেক বার ‘দিদিকেই’ মুখ্যমন্ত্রী রেখে দেওয়া যেতে পারে বলেও কটাক্ষের সুরে ‘প্রস্তাব’ দিলেন তিনি।
রবিবার মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে একাধিক জনসংযোগ কর্মসূচি ছিল সুকান্তের। তার মাঝেই বহরমপুরের প্রস্তাবিত রামমন্দির নির্মাণের জন্য গঠিত ট্রাস্টের ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন তিনি। সেই সাংবাদিক বৈঠকেই সুকান্তকে প্রশ্ন করা হয় প্রতিবন্ধী এবং প্রবীণ ভোটারদের এসআইআর শুনানিতে হাজিরা সংক্রান্ত ‘হয়রানি’ নিয়ে। সুকান্ত বলেন, ‘‘ভোট দিতে যান যখন, তখন হয়রানি হয় না? হয়রানি হয় তো! হয়রানি ছাড়া তো পৃথিবীতে কখনও কিছু সম্ভব নয়। যে কোনও কাজ করতে গেলে একটু না একটু হয়রানি তো হয়ই।’’ কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর কথায় পড়াশোনার প্রসঙ্গও চলে আসে। তিনি বলেন, ‘‘পড়াশোনা করা তো আরও হয়রানি। মোটা মোটা বই পড়তে হয়। সবই বন্ধ করে দেওয়া উচিত তা হলে।’’ সুকান্ত সেখানেই থামেননি। এসআইআর-কে ‘হয়রানি’ বলে মনে বলে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও বড় ‘হয়রানি’ বলে মনে হতে পারে বলে সুকান্ত মন্তব্য করেন। প্রশ্নকর্তাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘এতেই এত হয়রানি হচ্ছে বলে মনে হলে ভোট করারই বা কী দরকার? ভোট বন্ধ করে দিন তা হলে। প্রত্যেক বার দিদিকেই মুখ্যমন্ত্রী করে দিন আপনাদের ইচ্ছা মতো!’’
তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ তৈরির কথা ঘোষণা করার পরে বিজেপি পাল্টা রামমন্দির তৈরির কথা বলেছিল। সেই মন্দির তৈরির লক্ষ্যেই বানানো হয়েছে ‘রামলালা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’। সুকান্ত সেই ট্রাস্টের ওয়েবসাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন রবিবার করেছেন। তবে কত দিনে বহরমপুরে রামমন্দির তৈরির কাজ শেষ হবে, সে বিষয়ে সুকান্ত মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেছেন, ‘‘রামমন্দির তৈরির পরিকল্পনা ট্রাস্টের। আমি সেই ট্রাস্টের উপদেষ্টা মাত্র। মন্দির কবে বা কত দিনে তৈরি হবে, তা ট্রাস্ট স্থির করবে, সাধারণ মানুষ তথা হিন্দু সমাজ স্থির করবে। কারণ সরকারি অর্থে নয়, সাধারণ হিন্দুদের দানের অর্থে এই মন্দির তৈরি হবে।’’