পুরভোটে জেতার পর অশোক ভট্টাচার্য। ফাইল চিত্র।
বিধানসভা ভোটের ঢাকে এখনও কাঠি পড়েনি। শিলিগুড়িতে সিপিএম কিন্তু এক ধাপ এগিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করে দিয়েছে। দার্জিলিং জেলা সিপিএম সূত্রের খবর, শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্যকে সামনে রেখেই প্রচারে নেমে পড়ছেন তাঁরা। জেলা নেতৃত্বের দাবি, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে অশোকবাবুই শিলিগুড়ি বিধানসভায় বামফ্রন্টের প্রার্থী হতে চলেছেন। তাই তাঁর নেতৃত্বে পথে নামার ব্যাপারে আর দেরি করতে নারাজ দল। আগামী বৃহস্পতিবার শিলিগুড়িতে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই সফরের এক দিন আগে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং অপশাসনের অভিযোগ তুলে আন্দোলন শুরু করছে সিপিএম। যার সামনে থাকবেন অশোকবাবুই।
আগামী বুধবার, ২০ তারিখ তাদের প্রচার অভিযানের লক্ষ্য হবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর। সেখানে শিলিগুড়ি বিধানসভা তো বটেই, উত্তরবঙ্গের বাছাই করা ছ’টি বিধানসভা এলাকার নেতানেত্রীদের জমায়েত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, ওয়ার্ড ভিত্তিক সংগঠন সাজানোও শুরু করে দিয়েছে সিপিএম। গত রবিবার থেকে ওয়ার্ডে বুথভিত্তিক কর্মসূচিও শুরু করা হয়েছে। আর সব কিছুতেই সামনে রয়েছেন অশোকবাবু।
এর আগে পুরভোটে অশোকবাবুকে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে লড়েছে সিপিএম। মহকুমা পরিষদ ভোটেও তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছেন। তৃণমূল-বিরোধী ভোটকে বেশি ভাগ হতে না দিয়ে যে ‘শিলিগুড়ি মডেল’ তৈরি করেছিলেন তিনি, তাতে দুই ভোটেই দল তথা ফ্রন্ট অনেকটাই সফল। এ বার ফের সেই ‘মডেলেই’ লড়াই শুরু করা হচ্ছে। আর শিলিগুড়ি এলাকায় পরপর দু’টি ভোট হওয়ায় সংগঠনও অনেকটাই তৈরি।
অশোকবাবু অবশ্য ভোট বা প্রার্থীপদ নিয়ে এখনই বিশেষ কথা বলতে চান না। তাঁর কথায়, ‘‘সারা বছর আমরা মানুষের হয়ে লড়াই-আন্দোলনে থাকি। পুরসভা, পঞ্চায়েত চালাতে গিয়েও লড়াই করতে হচ্ছে। আর তৃণমূল যা করছে তা ভাবাই যায় না। তাই আন্দোলন করতেই হবে। ভোট তারই অঙ্গ।’’ তবে তাঁরা বিধানসভা ভোটের জন্য যে প্রস্তুত, তা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক তথা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক জীবেশ সরকার। জীবেশবাবু বলেন, ‘‘প্রার্থী ঠিক করবে দল ও বামফ্রন্ট। কিন্তু ভোট হবে সংগঠন দিয়েই। বুথভিত্তিক সেই কর্মসূচি শুরু হয়ে গিয়েছে।’’
১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯১ সাল অবধি অশোকবাবু পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৯১ সাল থেকে ২০১১ সাল অবধি চার দফায় তিনি শিলিগুড়ির বিধায়ক ছিলেন। এর মধ্যে ’৯৬ সাল থেকে রাজ্যে পরিবর্তনের বছর, অর্থাৎ ২০১১ পর্যন্ত তিনি ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। তার পরে তৃণমূলের হাওয়ায় রাজ্য জুড়ে জেলায় জেলায় সিপিএমের সংগঠন তলানিতে ঠেকেছে। সেখানে অশোকবাবুকে মেয়র হিসেবে সামনে রেখে পুরভোটে সাফল্য পায় বামফ্রন্ট। তাই এ বারও তাঁকেই সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করতে চাইছে জেলা সিপিএম। সেই সঙ্গে শিলিগুড়ি লাগোয়া মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, ফাঁসিদেওয়া, ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি, চোপড়া, রাজগঞ্জ এবং মালবাজারের মতো ছয়টি বিধানসভাকে বাছাই করা হয়েছে। সেখানেও সাংগঠনিক কাজকর্ম শুরু হয়ে গিয়েছে। বাম নেতাদের বক্তব্য, এই কেন্দ্রগুলিতে তাঁদের শক্তি বেশি। তাই লড়াইয়ের ক্ষমতাও বেশি।
বামফ্রন্টের কয়েক জন নেতা জানান, এসজেডিএ দুর্নীতি, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের কাজকর্ম, চা বাগান সমস্যাকে পুরসভা, পঞ্চায়েত ভোটেও সামনে রাখা হয়েছিল। তাতে সুফল মিলেছে। এ বারও মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গ সফরের এক দিন আগে বিষয়গুলি নিয়ে শহরে আন্দোলন করা হচ্ছে। তৃণমূলই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ধরে নিয়েই কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির কথা তেমন ভাবে বলা হচ্ছে না।
মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি এবং ফাঁসিদেওয়া— এই দুই কেন্দ্রের শক্তির বিচার করে সাংগঠনিক কাজ শুরু করেছেন কংগ্রেস নেতৃত্বও। আগামী ২২ জানুয়ারি বাগডোগরা চিত্তরঞ্জন হাইস্কুল মাঠে জনসভা করবে কংগ্রেস। সেখানে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর আসার কথা রয়েছে। জেলা কংগ্রেস সভাপতি শঙ্কর মালাকার বলেন, ‘‘জোট হবে কি না, প্রার্থী তালিকা— সব প্রদেশ নেতৃত্ব এবং হাইকম্যান্ড ঠিক করবে। তা বলে আমরা বসে নেই। নিজেদের শক্তিশালী এলাকা ধরে ধরে বুথভিত্তিক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বাগডোগরার জনসভা তারই অঙ্গ।’’ মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রের বিধায়ক শঙ্করবাবু নিজেই। ২০১১ সালের তৃণমূল-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী হিসাবে তিনি ওই কেন্দ্র থেকে জেতেন।