শরীর জুড়ে সাদা দাগ। তার মানেই শ্বেতী? না। সাদা দাগ মানেই শ্বেতী নয়। হতে পারে সেটা ছুলি। আবার কুষ্ঠ হলেও সাদা দাগ হয়। কিন্তু বুঝবেন কী করে, সমস্যাটা আসলে কী? চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ প্রশান্তকুমার দাস জানাচ্ছেন, ছুলি আসলে এক ধরনের ফাংগাল ইনফেকশন। এতে মুখ, হাত, বুক, ঘাড়, কানের পেছন সহ শরীরের নানা জায়গায় ছোট ছোট সাদা দাগ হবে। তবে একেবারে দুধের মতো সাদা নয়। হালকা সাদা। তাতে কিছু হালকা আঁশের মতো জিনিস থাকে। গরমে ফাংগাস বাড়ে, তাই তখন এই ধরনের দাগ বাড়বে। ঘাম হলে সেই দাগে চুলকানি হয়। কিন্তু শীতে সাদা দাগ কমতে থাকে। সুতরাং এই রকম চুলকানি দেখে বা দাগের বাড়া-কমা দেখে বোঝা যাবে, দাগের কারণ ছুলি কি না। দাগের কারণ কুষ্ঠ হলে, সেটি চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় তাতে কোনও সেনশেসন থাকে না। জায়গাটা অসাড় হয়ে যায়। চিমটি কাটলে লাগবে না। অনেক সময় পোড়া জায়গা বা কেটে যাওয়া জায়গাও সাদা হয়ে যায়। তার মানে ত্বকে কোথাও সাদা দাগ মানেই সেটা শ্বেতী নয়। অনেকের ধারণা, শ্বেতী মানেই ছোঁয়াচে। তা একেবারেই নয়। বরং ছুলি ছোঁয়াচে। এক জনের থেকে অন্য জনের হতে পারে।
প্রতিকার
• ত্বকের কোথাও সাদা দাগ হলে প্রথমেই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দেখানো দরকার।
• পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
• প্রথম অবস্থায় এলে শ্বেতী ভাল হয়ে যায়। কিন্তু রোগ অনেকটা ছড়িয়ে পড়লে কিছু করার থাকে না।
• মেলানিনের অভাবে ত্বকে সাদা দাগ হয়। ভিটামিন সি মেলানিন তৈরিতে বাধা দেয়। শ্বেতী হলে ভিটামিন সি কম খাওয়া উচিত।
• ছুলি হলে চিরুনি, তোয়ালে, গামছা, জামা-কাপড় আলাদা করে রাখা উচিত। নইলে সেগুলো ব্যবহারে অন্য কারও ছুলি হতে পারে।
• ঠিক সময়ে চিকিৎসা করালে ছুলি ও কুষ্ঠ রোগ সম্পূর্ণ ভাল হয়ে যায়।