Duare Ration

দুয়ারে রেশন যেন রেশনের ‘ব্লিঙ্কইট ’, বলল সুপ্রিম কোর্ট

পশ্চিমবঙ্গের ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্পের আইনি গ্রহণযোগ্যতা নেই বলে কলকাতা হাই কোর্ট ২০২২-এর সেপ্টেম্বরে রায় দিয়েছিল। এই প্রকল্প কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের পরিপন্থী বলেও রায় দিয়েছিল হাই কোর্ট।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১০
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্পকে রেশন ব্যবস্থার ‘ব্লিঙ্কইট’ পরিষেবা বলে মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, রেশন দোকানে গিয়ে চাল-গম কিনতে হচ্ছে না। ঘরে রেশন পৌঁছে যাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্পের আইনি গ্রহণযোগ্যতা নেই বলে কলকাতা হাই কোর্ট ২০২২-এর সেপ্টেম্বরে রায় দিয়েছিল। এই প্রকল্প কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের পরিপন্থী বলেও রায় দিয়েছিল হাই কোর্ট। রেশন ডিলারদের মামলার প্রেক্ষিতে হাই কোর্টের ওই রায়ের বিরোধিতা করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে এসেছিল। সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়ে মামলার ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্প চালিয়ে যেতে বলেছিল। আজ সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা ও বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ শুনানির শেষে রায় সংরক্ষিত রেখেছে। বিচারপতি বিক্রম নাথ প্রশ্ন তুলেছেন, যদি সাধারণ মানুষ ঘরে বসে রেশন পেয়ে যান, তা হলে অসুবিধা কোথায়? জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন রেশন ডিলারদের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য নয়— যাঁরা রেশন গ্রাহক, তাঁদের সুরাহার জন্য। বিচারপতি সন্দীপ মেহতা বলেন, ‘‘এ তো রেশন ব্যবস্থার ‘ব্লিঙ্কইট’। যাঁদের রেশনের মাধ্যমে সুরাহা পাওয়ার কথা, তাঁরা উপকৃত হচ্ছেন কি না? সেটাই আসল প্রশ্ন।’’

রাজ্যের হয়ে আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী বলেন, রাজ্য সরকার এ ক্ষেত্রে বাড়তি উদ্যোগী হয়ে ঘরে রেশন পৌঁছে দিচ্ছে। কিন্তু রেশন ডিলারদের হয়ে আইনজীবী রাজু রামচন্দ্রন, গোপাল শঙ্করনারায়ণন বলেন, এর ফলে অধিকাংশ দিন রেশন দোকান বন্ধ থাকবে। রেশন ডিলাররা টেম্পো করে রেশন বিলি করতে বেরোবেন। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টিতে রেশন নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ পাবেন না। প্রত্যন্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক না-থাকায় আধারের মাধ্যমে পরিচিতি যাচাই করা যাবে না। ‘ই-পস’ যন্ত্র কাজ করবে না। রেশন ডিলারদের প্রাপ্য কমিশন ছাড়া রাজ্য সরকার ঘরে ঘরে রেশন বিলির জন্য মাসে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা দিচ্ছে। কিন্তু গাড়ি, চালক, জ্বালানিতে রেশন দোকানদারদের মাসে ৭০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। দিল্লিতেও একই প্রকল্প চালু হয়েছিল। তা বেআইনি বলে খারিজ হয়ে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বলেন, দিল্লিতে রেশন দোকান পুরোপুরি তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে তা হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী শৈলেশ মাড়িয়াল বলেন, কেন্দ্রের ‘এক দেশ, এক রেশন’ ব্যবস্থায় সব সময়ে রেশন দোকাল খোলা রাখতে হবে, যাতে পরিযায়ী শ্রমিকেরা যে কোনও সময়ে রেশন পান। কিন্তু ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্পে সব সময়ে রেশন দোকান খোলা থাকবে না। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এই সব যুক্তি হাই কোর্টে দেয়নি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন