প্রতীকী ছবি
কোভিড চিকিৎসার খরচ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকার মোকাবিলায় দ্বিমুখী কৌশল নিয়ে এগোতে চাইছে বেসরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্র। বিভিন্ন সূত্রের খবর, কৌশলের অগ্রভাগে রয়েছে আবেদন-নিবেদন। তাতে কাজ না-হলে ঘুরপথে লাভের অঙ্কে ভারসাম্য বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি নির্দেশিকার ‘ত্রিফলা’ (নমুনা পরীক্ষা খরচ ২২৫০ টাকার বেশি নয়, প্রতিদিন পিপিই খরচ এবং চিকিৎসকদের ‘ফি’ এক হাজার টাকার বেশি নয়) বেসরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রের অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলতে পারে তার বিশ্লেষণে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একাংশের বক্তব্য, কোভিডের চিকিৎসার খরচ বেঁধে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার নিয়েছে শুক্রবার তা আংশিক কার্যকর করা হয়েছে মাত্র। তাই নিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা খরচের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশিত হওয়ার আগে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি নবান্নের সামনে তুলে ধরতে চাইছে বেসরকারি হাসপাতালগুলির সংগঠন। আগামিকাল, সোমবার লিখিত আবেদন সরকারি প্রতিনিধিদের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব হসপিটালস অব ইস্টার্ন রিজিয়ন’-এর প্রেসিডেন্ট রূপক বড়ুয়া।
রূপকবাবুর কথায়, ‘‘আরটি-পিসিআরে সম্ভব হলেও ট্রু-ন্যাটে ২২৫০ টাকা নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। পিপিই, চিকিৎসকদের ফি নিয়েও আমাদের বক্তব্য বিশদে রাজ্য সরকারকে জানানো হবে। সরকারের কাছে আবেদন থাকবে পরিষেবার গুণমান যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে।’’
কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালের পদস্থ কর্তা জানান, তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের ৮০০ টাকা দামের পিপিই দিতে দৈনিক ৪৮০০০ টাকা খরচ হয়। ওয়ার্ড সর্বদা ভর্তি থাকলে তবেই সরকারি নির্দেশিকা মেনে লাভ করা সম্ভব। তাঁর কথায়, ‘‘৮০০ টাকার কম দামের পিপিই’তে গরম বেশি লাগে। সেগুলি চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা দীর্ঘ সময় পরে থাকতে পারবেন না। তাতে সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।’’
আর একটি হাসপাতালের কর্তার বক্তব্য, ‘‘কো-মর্বিডিটির কোভিড রোগী হলে মেডিসিনের পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসককে রোগীকে দেখতে হতে পারে। এক হাজার টাকায় চিকিৎসক কোথায় পাব?’’ ‘ডক্টরস ফর পেশেন্টস’-এর তরফে চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও বলেন, ‘‘চিকিৎসকদের ফি বেঁধে দেওয়া অনুচিত।’’
রাজ্য সরকার বেসরকারি কোভিড হাসপাতাল স্থাপনের সময় ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের আওতায় যে রেট ধার্য করেছিল তাতে কো-মর্বিডিটির রোগীদের ক্ষেত্রে বিলের তারতম্য ঘটতে পারে বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা পেতে অসুবিধা হচ্ছে জানিয়ে হাওড়ার এক কোভিড হাসপাতালের কর্ণধার বলেন, ‘‘এক জন করোনা রোগীর চিকিৎসার খরচ ১০-১৫ লক্ষ টাকা হতে পারে না। কিন্তু সরকারি নির্ধারিত রেটে অস্ত্রোপচারের খরচ ধরা নেই। কোভিড পজ়িটিভ প্রসূতি মা, ক্যানসার রোগীর প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার কি হবে না?’’ সূত্রের খবর, বহির্বিভাগের রোগীদের থেকেও পিপিই’র খরচ ধরা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে নেওয়া হতে পারে ‘সেফটি চার্জ’। এ নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘চিকিৎসকদের ফি বৃদ্ধির বিষয়টি ভাবা যেতে পারে। তবে পিপিই’র খরচ নিয়ে আপত্তি থাকা উচিত নয়।’’