সঙ্ঘের পক্ষে পরিস্থিতি অনুকূল, দাবি ভাইয়াজির

বিজেপি-র অন্দরমহল সূত্রেই খবর, তাদের দখলে থাকা রাজ্যগুলি থেকে আগামী লোকসভা নির্বাচনে নতুন আসন জেতা কঠিন। বরং, প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়ায় ওই রাজ্যগুলিতে দলের আসন কমতেও পারে। তাই আগামী লোকসভা ভোটে অ-বিজেপি রাজ্যগুলি থেকে বেশি আসন জিততে মরিয়া বিজেপি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শিলিগুড়ি ও কলকাতা শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০১৭ ০৩:২০
Share:

সম্মেলনে যোগ দিয়ে শাসক তৃণমূলের নানা হামলার কথা শোনাচ্ছিলেন সঙ্ঘের প্রতিনিধিরা। আর তাকেই রাজ্যে সংগঠনের পক্ষে ‘অনুকূল অবস্থা’ বলে ব্যাখ্যা করলেন আরএসএস-এর সাধারণ সম্পাদক সুরেশ ভাইয়াজি জোশী। শিলিগুড়িতে শুক্র ও শনিবার বিজেপি-সহ সঙ্ঘ পরিবারের ২৮টি সংগঠনকে নিয়ে বৈঠক করেন ভাইয়াজি। সঙ্ঘ সূত্রের খবর, তিনি বলেন, আরএসএস-এর ৯২ বছরের ইতিহাসে দেশে এমন অনুকূল পরিস্থিতি আগে আসেনি। এখন সঙ্ঘের প্রতি মানুষের আগ্রহ এবং সমর্থন দুই-ই বাড়ছে। তাতেই ভয় পেয়ে আক্রমণ করছে তৃণমূল। একই সঙ্গে তাঁর বার্তা, মানুষকে সঙ্গে নিয়েই সব হামলার মোকাবিলা করতে হবে।

Advertisement

বিজেপি-র অন্দরমহল সূত্রেই খবর, তাদের দখলে থাকা রাজ্যগুলি থেকে আগামী লোকসভা নির্বাচনে নতুন আসন জেতা কঠিন। বরং, প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়ায় ওই রাজ্যগুলিতে দলের আসন কমতেও পারে। তাই আগামী লোকসভা ভোটে অ-বিজেপি রাজ্যগুলি থেকে বেশি আসন জিততে মরিয়া বিজেপি। এই অঙ্কে পূর্বাঞ্চলে পশ্চিমবঙ্গ এবং ওডিশা—এই দুই রাজ্যকে পাখির চোখ করছে তারা। সঙ্ঘ সূত্রের বক্তব্য, শিলিগুড়িতে ভাইয়াজির বৈঠক করতে আসাতেই স্পষ্ট, পশ্চিমবঙ্গকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে সঙ্ঘ। এই গুরুত্ব দেওয়ার অর্থ— এ রাজ্যে বিজেপির বিস্তারে সব রকম সাহায্য করবে সঙ্ঘ পরিবার। তাৎপর্যপূর্ণ হল, শিলিগুড়ি থেকে ভাইয়াজি গিয়েছেন ওডিশায়। সেখানে রৌরকেল্লায় রবি ও সোমবার একই ধরনের বৈঠক করবেন তিনি।

সঙ্ঘ সূত্রের খবর, দু’দিনের বৈঠকে প্রদীপ জোশী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকার অসহিষ্ণুতা এবং তোষণের রাজনীতিকে তুঙ্গে নিয়ে গিয়েছে। তার মোকাবিলা করতে গিয়ে বিজেপি এবং আরএসএস কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় আক্রান্ত হচ্ছেন। হয় পুলিশ তাঁদের ‘মিথ্যা’ মামলায় ফাঁসাচ্ছে, নয়তো তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা করছে। এ সবের বিরুদ্ধে আগামী দিনে একাধিক কর্সূচি নেওয়ার কথাও বলা হয় সম্মেলনে।

Advertisement

বৈঠক শেষে আরএসএসের মুখপাত্র জিষ্ণু বসু বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকারের মতো এমন অসহিষ্ণু সরকার রাজ্যে আগে আসেনি। রাজ্য জুড়ে দলিতরা আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এই বিষয়ে রাজ্য জুড়ে জনসচেতনতা গড়তে কাজ করবে সঙ্ঘের সব সহযোগী সংগঠন। সঙ্গে থাকবে জেহাদি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রচার।’’ রাজ্যে তাদের সংগঠন বাড়ছে বলেও এ দিন সঙ্ঘের তরফে দাবি করা হয়েছে। আরএসএসের উত্তরবঙ্গের প্রান্ত প্রচারক তরুণ পণ্ডিতের দাবি, গত বছর উত্তরবঙ্গে তাঁদের ৪০০ শাখা ছিল। এ বছর তা প্রায় একশো বেড়েছে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন