এ যেন ঠিক মাছের তেলে মাছ ভাজা! সরকারের পরিকাঠামো বেসরকারি সংস্থাকে ভাড়া দেওয়া। তাতে উপকৃত দু’পক্ষই।
খরচ কমাতে পর্যটন দফতর এ বার সরকারি উৎসবগুলিতে বেসরকারি সংস্থার হাত ধরতে চাইছে। সেই সব উৎসবে বেসরকারি সংস্থা যেমন তাদের বিজ্ঞাপনের সুযোগ পাবে, তেমন সরকারও তাদের খরচে উৎসব প্রাঙ্গন সাজিয়ে তুলতে পারবে। তাতে রাশ টানা যাবে সরকারি খরচে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের চার কোটি থেকে দ্বিগুণ বেড়ে পর্যটন দফতর এ বার প্রায় ৮ কোটি টাকা লাভ করেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সামগ্রিক ভাবে সরকারের আর্থিক অনটন থেকে যাচ্ছে। তার উপরে নোট বাতিলের ধাক্কায় চলতি অর্থবর্ষের শেষ পাঁচ মাসে সওয়া পাঁচ
হাজার কোটির রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কার কথা মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় জানিয়েছেন। যদিও পর্যটন দফতর তার আগেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দফতরের এক আধিকারিকের বক্তব্য, ‘‘এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছিল। এখন মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন, তাতে আরওই কোনও বিকল্প থাকল না।’’
দফতর সূত্রে উদাহরণ দেওয়া হচ্ছে, সামনেই বড় দিনের উৎসবে প্রতি বার পার্ক স্ট্রিটকে আলোয় সাজানোর খরচ বহন করতে হয় সরকারকে। এ বার পর্যটন দফতর ঠিক করেছে, এর জন্য বেসরকারি সংস্থাকে আহ্বান করা হবে। এই খরচের বিনিময়ে সেই সংস্থা ওই এলাকায় বিজ্ঞাপন দিতে পারবে। কত দিনের জন্য সেই বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে, তা আলোচনা করে ঠিক করা হবে। বিভিন্ন মেলার ক্ষেত্রেও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধবে পর্যটন দফতর। যেমন বিষ্ণুপুর মেলার জন্য সরকারের খরচ হত প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। সেই খরচ আর সরকার টানতে রাজি নয়। রাজ্যের বৃহত্তম উৎসব দুর্গা পুজোতেও বেসরকারি সংস্থার সাহায্য নিতে চলেছে পর্যটন দফতর।
পর্যটন সচিব অজিতরঞ্জন বর্ধন বলেন, ‘‘দফতরের খরচ বাঁচাতেই আমরা ঠিক করেছি, এ বার থেকে বিভিন্ন উৎসবে বেসরকারি সংস্থাগুলির সাহায্য নেওয়া হবে। তাতে বছরে কয়েক কোটি টাকা সাশ্রয় হবে সরকারের। এমনিতেই অতিথিশালাগুলিতে আয়ের পরিমাণ বেড়েছে। এর পরে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারলে লাভের অঙ্ক আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’’