— প্রতীকী চিত্র।
বিয়ে টেকেনি। কিন্তু, নাবালিকা অবস্থায় ভিন্ ধর্মে বিয়ে করায় এক তরুণীর পরিবারকে সামাজিক বয়কটের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে বীরভূমের দুবরাজপুর থানার একটি গ্রামে।
জানা গিয়েছে, গ্রামবাসীর এক বড় অংশ ওই তরুণীর পরিবারকে সামাজিক অনুষ্ঠান, পুরোহিত, নাপিত, শ্রমিক থেকে শুরু করে পুকুরের ঘাট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার ফতোয়া দিয়েছে। রীতিমতো ঢোল বাজিয়ে এবং লিফলেট ছাপিয়ে ফতোয়া জারির পরেই ওই তরুণী সম্প্রতি জেলাশাসক ও দুবরাজপুর থানাকে চিঠি লিখে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন। যদিও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পরিস্থিতির বদল হয়নি বলেই তরুণীর দাবি। জেলাশাসকের প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুলিশের এক অফিসারের বক্তব্য, সংবেদনশীল বিষয়। সমস্যা মেটাতে চেষ্টা চলানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, মাধ্যমিক পাশের পরে ২০২৪ সালে পরিবারের অমতে ভিন্ ধর্মের এক যুবককে বিয়ে করেন ওই তরুণী। তখনও তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হননি। বিয়ে টেকেনি। গত জুলাইয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। তরুণী এ দিন বলেন, ‘‘বাড়ি ফেরার পরে পাড়ার মাতব্বরেরা আমাকে এবং বাবাকে অপমান করেন। হুঁশিয়ারি দেন, আমাকে এখানে রাখা চলবে না। তা হলে সামাজিক বয়কট করা হবে। আমি কিছু দিন বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছি।’’ তাঁর অভিযোগ, গত ডিসেম্বরে ফের বাড়ি ফেরার পরেই সমস্যা শুরু হয়েছে। বলেন, ‘‘লিফলেট ছড়িয়ে এবং ঢোল দিয়ে আমাদের পরিবারকে একঘরে করে দেওয়া হয়েছে। আমার ভাইকে যে গাড়ি স্কুলে নিয়ে যায়, সেটির চালককেও আসতে দেওয়া হচ্ছে না।’’
এলাকাটি সিউড়ি বিধানসভার মধ্যে পড়ে। কেন এক তরুণীর ব্যক্তিগত সমস্যার মাঝে ঢুকে এমন ফতোয়া, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সিউড়ির তৃণমূল বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানি না। এমনটা হয়ে থাকলে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব।’’ সিউড়ির বাসিন্দা, বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় আবার বলছেন, ‘‘লভ জিহাদের শিকার কোনও তরুণী ফিরে এলে সমাজের উচিত তাঁকে সংরক্ষণ দেওয়া।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে