— প্রতীকী চিত্র।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের সপ্তাহ ঘুরতে চললেও, যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির নামে ভোটারদের হয়রানি কেন কমল না, এই প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনকে বিঁধতে শুরু করল বিজেপি ছাড়া সব দল। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে গিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। পাশাপাশি, সিইও দফতরে গিয়ে বাঁকুড়ার খাতড়ার উদাহরণকে সামনে রেখে ভোটার তালিকায় থাকা কারও নাম নিয়ে আপত্তি জানানোর জন্য যে ৭ নম্বর ফর্ম, তা জমা করতে বাধার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। এসআইআর-এ হয়রানির প্রতিবাদে রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নেতৃত্বে কলকাতায় রাজাবাজার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামা।
তৃণমূলের তরফে সাংসদ দোলা সেন, পার্থ ভৌমিক, মহুয়া মৈত্র, বাপি হালদার এবং রাজ্যের মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা মঙ্গলবার সিইও দফতরে গিয়ে দাবি-দাওয়ার কথা জানিয়েছেন। মহুয়ার অভিযোগ, “সিইও-র প্রস্তাব মতো মাইক্রো অবজ়ার্ভার নিয়োগ করে বেআইনি কাজ করছে কমিশন। ভোটাধিকারের সিদ্ধান্তে ইআরও-দের এড়িয়ে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের ক্ষমতা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। নির্দিষ্ট পোর্টালের লগ-ইন আইডি ও পাসওয়ার্ড দিতে বলা হচ্ছে।’’ তৃণমূলের আরও অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও ‘যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি ও সংযোগহীন ভোটার’দের (আনম্যাপড) তালিকা মিলিয়ে সাধারণ ভোটারকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছে কমিশন। তৃণমূল গোটা বিষয়টি আদালতে জানাবে বলেও জানিয়েছেন পার্থ। ওয়টস অ্যাপে নির্দেশ, যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির সংজ্ঞা বদলের মতো নানা অভিযোগও তুলেছে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, এসআইআর-প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং কোনও ভোটারকে হয়রান করা বা ইচ্ছা মতো বাদ দেওয়া যাবে না। কিন্তু বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।’
এই পরিস্থিতিতে ফের ফর্ম ৭ নিয়েই কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি তাপস রায় ও সঞ্জয় সিংহেরা। খাতড়ায় পুলিশের দ্বারা ফর্ম ৭ বাজেয়াপ্ত করার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিজেপির দাবি, ‘কমিশনের অনুমতি ছাড়া স্থানীয় পুলিশ এই কাজ করতে পারে না। এটা আসলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অযাচিত হস্তক্ষেপ।’ ফর্মগুলি উদ্ধার, দলের বিএলএ ২-দের নিরাপত্তা, ফর্ম ৭ ফর্ম জমা নেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছে বিজেপি। তাপসের অভিযোগ, “তৃণমূল বিএলও-মৃত্যু নিয়ে বাজার গরম করছে। আমরা তাঁদের মৃত্যুতে সমব্যথী। কিন্তু সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকেরা একটি মৃত্যুরও রিপোর্ট দিতে পারেননি। বোঝাই যাচ্ছে পুরোটাই রাজনীতির স্বার্থে করা হচ্ছে।”
এরই মধ্যে এসআইআর-এ মানুষের হয়রানির অভিযোগ তুলে বিধানসভায় নিন্দা প্রস্তাব জমা করেছেন আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী। তাঁর বক্তব্য, “যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিশিষ্টদেরও হয়রান করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার এখনও নিন্দা করেনি।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে