গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
মঙ্গলবার সকালে মোহনবাগান ক্লাবের সহ-সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। কিন্তু বিকেলেই নতুন পদপ্রাপ্তি হল তাঁর। রাজ্যে পালাবদলের পরে দ্বিতীয় কোনও হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্য করা হল বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ককে।
সপ্তাহখানেক আগেই বিধানচন্দ্র রায় শিশু হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্য করা হয়েছিল কুণালকে। এ বার তাঁকে ‘ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট আয়ুর্বেদিক এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ অ্যাট শ্যামাপ্রসাদ বিদ্যা শাস্ত্রপীঠ’-এর তরফে পত্র মারফত জানানো হয়েছে রোগীকল্যাণ সমিতির আমন্ত্রিত সদস্য করার কথা। এটি রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের অধীনে থাকা হাসপাতাল।
বিসি রায় শিশু হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতিতে কুণালের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিতর্ক উস্কে দিয়েছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি দাবি করেছিলেন, এমন কোনও তথ্য সরকারের কাছে নেই। মন্ত্রী বলেছিলেন, “বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেছেন, শিশু হাসপাতালে (রোগী কল্যাণ সমিতিতে) নাকি তাঁকে মনোনীত করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের তরফে এমন কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই।” অগ্নিমিত্রা আরও বলেন, “আমরা যে মনোনীত কোনও নাম পাঠিয়েছি— বিষয়টি এমন নয়। আমরা দেখছি। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে দিতে চাই, সরকারের দিক থেকে কুণালবাবুর নাম আমরা পাঠাইনি।”
পাল্টা কুণাল বলেছিলেন, ‘‘আমায় প্রথমে নিয়োগের কথা ফোন করে জানানো হয়। তার পর হোয়াট্সঅ্যাপ মারফত নথি পাঠানো হয়। তার পরে আমার বাড়িতে এসে সেই সংক্রান্ত নথির ‘হার্ড কপি’ পৌঁছে দেওয়া হয়।” কুণাল আরও বলেন, “আমার মনে হয়েছিল বিরোধী বিধায়ককে রোগী কল্যাণ সমিতিতে যুক্ত করা সরকারের সদর্থক পদক্ষেপ। তাই আমি তা গ্রহণ করার কথা বলেছি। ওঁদের ক্ষমতা আছে আমাকে সরিয়ে দেওয়ার। কিন্তু তার জন্য নতুন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। তবে আমাকে যুক্ত করা হয়নি, এটা বলবেন না।”
সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না-কাটতেই আরও একটি হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতিতে জায়গা পেলেন কুণাল। শুধু তা-ই নয়, অধ্যক্ষ যে চিঠিটি কুণালকে পাঠিয়েছেন, তাতে লেখা রয়েছে, তিনি যেন তাঁর সুবিধা মতো তারিখ এবং সময় জানান। তার ভিত্তিতে রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠক ডাকা হবে।