ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক অশোক ঘোষের সঙ্গে দেখা করতে আসবেন বলেও শেষ পর্যন্ত এলেন না দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ। নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের প্রশ্নে ধোঁয়াশা বজায় রেখেও বিধানসভায় এসে ভূয়সী প্রশংসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের! বিধানসভার লবিতে বসে সময় কাটালেও ঢুকলেন না বামফ্রন্ট বিধায়কদের ধরে। সব মিলিয়ে বুধবার জমজমাট থাকল উদয়ন-নাটক!
অশোকবাবুর কাছে দূত মারফত চিঠি পাঠিয়ে ফ ব-র রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী এবং কোচবিহার জেলা সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন উদয়নবাবু। চিঠি পেয়ে অশোকবাবু ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে উদয়নবাবু জানিয়েছিলেন, কলকাতায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে তিনি দেখা করবেন। প্রথমে কথা ছিল, সোমবার ফ ব-র রাজ্য দফতরে আসবেন দিনহাটার বিধায়ক। পরে ঠিক হয়, এ দিন কলকাতায় পৌঁছে তিনি হেমন্ত বসু ভবনে যাবেন। সেইমতোই এ দিন উদয়নবাবুর সঙ্গে কথা বলার জন্য দলের দফতরে অপেক্ষা করেছিলেন অশোকবাবু, ফ ব-র সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত বিশ্বাস এবং রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক সদস্য। তাঁদের এই প্রতীক্ষার মাঝেই হুগলি জেলা থেকে ফ ব-র এক দল কর্মী-সমর্থক রাজ্য দফতরে ঢুকে প্রবল বিক্ষোভ দেখান। হুগলির সদ্য অপসারিত জেলা সম্পাদক নরেন দে-র অনুগামী ওই কর্মীদের দাবি ছিল, হুগলি জেলায় কেন কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে অশোকবাবুকে তাঁদের সঙ্গে মুখোমুখি বসতে হবে। এই নিয়ে রাজ্য দফতরে প্রবল বচসার পরেও অশোকবাবু অবশ্য বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা করেননি। তবে দেবব্রতবাবু এবং অন্য রাজ্য নেতারা তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন।
ফ ব-র দফতরে যখন এমন ঘটনা, উদয়নবাবু তখন বসেছিলেন বিধানসভার লবিতে। বিধানসভার একটি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যোগ দিলেও বামফ্রন্টের ঘরে এ দিন তিনি ঢোকেননি। বরং, বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে পৃথক আলিপুরদুয়ার জেলা তৈরি, ছিটমহল সমস্যার মীমাংসা, ও তিস্তা জলবণ্টনের প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকাকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছেন তিনি। তা হলে কি তিনি তৃণমূলেই যাচ্ছেন? গত কয়েক দিনের ধোঁয়াশা বজায় রেখে এ দিনও উদয়নবাবুর বক্তব্য, তিনি রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেবেন, না অন্য কোনও বিকল্প পথে যাবেন, তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেননি। কিন্তু ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত না নিলেও এখনও তিনি ফ ব-র নেতা। তা হলে দলের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলছেন না কেন? উদয়নবাবুর বক্তব্য, ‘‘ভেবেছিলাম আজ ফ ব-র রাজ্য দফতরে যাব। কিন্তু শুনলাম, সেখানে হুগলির লোকজন এসেছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। এর মধ্যে আমি আর সেখানে গিয়ে কী করব!’’
সন্ধ্যা পর্যন্ত দিনহাটার নেতার জন্য অপেক্ষা করে অশোকবাবু বলেন, ‘‘উদয়নের সঙ্গে আমরা কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু উনি যে আসবেন না, সেই খবরটুকুও আমাদের দেওয়া হয়নি। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক! আমাদের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীতে গোটা বিষয়টা আলোচনা হবে।’’ উদয়নবাবুর আচরণে দুঃখ পেলেও তাঁর সঙ্গে আলোচনার রাস্তা তাঁদের তরফে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে না বলে অশোকবাবু জানিয়েছেন। তবে হুগলির বিক্ষোভকে তিনি গুরুত্ব দিতে চাননি। দেবব্রতবাবু এ ব্যাপারে বলেন, ‘‘বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। এর পরে আমাদের যা করণীয়, করা হবে।’’
এরই মধ্যে এ দিন অশোকবাবুকে ফোন করেছিলেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। আগামী রবিবার সিপিএম এবং ফ ব-র মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে। সেখানে দিনহাটার প্রসঙ্গও উঠতে পারে বলে বাম সূত্রের খবর।