কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বছরখানেক আগে ষোড়শ অর্থ কমিশনের বৈঠকে করের ভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল রাজ্য সরকার। রবিবার বাজেট পেশের আগে সেই অর্থ কমিশনের রিপোর্ট সংসদে পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তাতে রাজ্যগুলিকে দেওয়া কেন্দ্রীয় করের ভাগ (ডেভলিউশন) অপরিবর্তিতই রেখেছে কমিশন। যা নিয়ে ফের কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগে সরব হয়েছে শাসক দল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর মুখ্য উপদেষ্টা অমিত মিত্র কেন্দ্রের বাজেটকে অন্তঃসারশূন্য বলে কটাক্ষ করেছেন। সমালোচনায় মুখর অন্য বিরোধী রাজ্যগুলিও।
২০২৪-এর ডিসেম্বরে রাজ্যে এসে ওই অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান অরবিন্দ পানাগড়িয়া বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী-সহ প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে। সেই বৈঠকে রাজ্যের প্রস্তাব ছিল, কেন্দ্রীয় করের ভাগ ৪১% থেকে বাড়িয়ে করা হোক ৫০%। তবে এ দিন কমিশন আগের হারই বরাদ্দ রেখেছে। তাতে মান্যতাও দিয়েছে কেন্দ্র। এই হারে কেন্দ্রীয় অনুদান-সহ রাজ্যগুলিকে ১.৪ লক্ষ কোটি টাকা ভাগ করে দেওয়া হবে ২০২৬-২৭ অর্থ বর্ষে। এই বরাদ্দের প্রায় ৭.২১ শতাংশ পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। জিএসডিপির নিরিখে ৩% রাজস্ব ঘাটতি মানার সীমাও ধার্য করা হয়েছে রাজ্যগুলির জন্য। বাজেটে এ-ও বলা হয়েছে, শহুরে এলাকায় পুরসভাগুলির ক্ষমতা বাড়াতে তারা বন্ড ছেড়ে টাকা তুলতে পারবে। প্রসঙ্গত, এই বাজেটের আগে রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। সেই বৈঠকে বকেয়া বরাদ্দের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল এ রাজ্য। তাদের দাবি, কেন্দ্রের কাছে প্রায় দু'লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।
অমিত এ প্রসঙ্গে বলেন, “৫০ শতাংশের পক্ষে সওয়াল করা হয়েছিল। একই হার রেখে দেওয়া দুর্ভাগ্যজনক। এখন যেখানে ট্যাক্স রয়েছে, তা সেসে পরিণত করে দিচ্ছে। কারণ, সেস হলে রাজ্যগুলো এক পয়সাও পাবে না। সেই ধাক্কা সামলাতে করের ৫০% দেওয়া নিয়ে আমাদের প্রস্তাব তাঁরা মানতে পারতেন। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরোধী এই কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের থেকে আমাদের ন্যায্য পাওনা আসছে না।”
যদিও বিজেপি এগিয়ে রাখছে কেন্দ্রের শিল্পবার্তাকে। দুর্গাপুর যুক্ত হচ্ছে উত্তর-পূর্ব শিল্প মানচিত্রের সঙ্গে। ডানকুনি থেকে সুরাত পর্যন্ত আর্থিক করিডর, সেমিকন্ডাকটর-এমএসএমই (ছোট-ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প)-তথ্যপ্রযুক্তি নীতি, সার উৎপাদনে স্বনির্ভর হয়ে ওঠার বার্তা এবং এক জেলা-এক পণ্যের উপর জোর রয়েছে কেন্দ্রের বাজেটে। মমতা দাবি করেছেন, ওই আর্থিক করিডরের প্রস্তাব তিনি রেলমন্ত্রী থাকাকালীন করা হয়েছিল। আর অমিত বলেন, “এটা ভাঁওতা। আমরা ছ’টা আর্থিক করিডর করছি। তার মধ্যে তিনটের কাজ চলছে। যদিও ৩ কোটি ২৯ লক্ষ লোক বেকার রয়েছে, ৭% বেকারত্ব। এ সব নিয়ে বাজেটে কোনও কথা বলা হয়নি। সার, শিক্ষা, এসসি, এসটি, ওবিসি, মাইনরিটি বরাদ্দও কমানো হয়েছে।”
বাজেটে সেমিকন্ডাকটর নীতিও ঘোষণা করা হয়েছে। সেমিকন্ডাকটরে অসম-সহ অনেক রাজ্য এগিয়ে গিয়েছে। অমিতের দাবি, “পশ্চিমবঙ্গ এ ক্ষেত্রে হাব হয়ে উঠছে। সে ব্যাপারে কেন্দ্রের তরফে কোনও উল্লেখ নেই। কেন্দ্র রাজনীতি করে টাটাদের যদি বলে অসমে যাও,... তবে টাটাদের টিসিএস-এ ৫৪ হাজার ছেলেমেয়ে চাকরি করে! পশ্চিমবঙ্গে ডেটা সেন্টার গড়ে উঠছে। একটা তৈরি হয়ে গিয়েছে। একটা দেশীয়, একটা জাপানি এবং আর একটা সিঙ্গাপুরের ডেটা সেন্টার তৈরি হচ্ছে আমাদের এখানে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে