নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করল নবান্ন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রাজ্যের সেই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে অবশেষে পদক্ষেপ করল নবান্ন। জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে ওই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবারই ছিল সেই নির্দেশ মানার শেষ দিন। নির্দেশ কার্যকর হয়েছে, সেটা জানিয়ে কমিশনকে চিঠিও দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। কমিশন সূত্রে খবর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ ফুল বেঞ্চ বর্তমানে অসমে রয়েছে। সেখান থেকে ফেরার পরেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজ শুরু আগেই ‘বিতর্কে’ জড়ান রাজ্যের চার আধিকারিক। বেআইনি ভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগ উঠেছিল তাঁদের বিরুদ্ধে। শুধু তাঁরা একা নন, একই অভিযোগে নাম জড়ায় ডেটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত এক কর্মীরও। সেই অভিযোগ নিয়ে শোরগোল পড়তেই তাঁদের সাসপেন্ড করতে বলেছিল কমিশন।
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগেই দুই জেলার ওই চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়ে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে চিঠি দিয়েছিল কমিশন। অভিযোগ, ওই আধিকারিকেরা ‘ভুয়ো’ বা ‘ভূতুড়ে’ ভোটারদের নাম তালিকায় বেআইনি ভাবে তুলেছেন। এ বিষয়ে প্রথমে গত বছর ৫ অগস্ট রাজ্যকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল কমিশন। পরে ৮ অগস্ট ফের একটি চিঠি পাঠানো হয়। নির্দেশ কার্যকর করা না-হওয়ায় গত ২ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট দুই জেলাশাসককে এফআইআর করার নির্দেশ দেয় কমিশন। সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। ইতিমধ্যে সিইও দফতর থেকে জেলাশাসকদের দু’বার ‘রিমাইন্ডার’ দেওয়া হয়।
তবে তার মধ্যেই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি)-এর পরামর্শ নেয় নবান্ন। তার পরে চিঠি পাঠায় সিইও দফতরে। চিঠিতে বলা হয়, ওই চার আধিকারিকের অপরাধ এফআইআর করার জন্য যথেষ্ট নয়। কম গুরুত্বপূর্ণ অপরাধে এত বড় শাস্তি দেওয়া ঠিক নয়। অন্য দিকে, নির্দেশ কার্যকর না-হওয়ায় কমিশন গত শুক্রবার দিল্লিতে নির্বাচন সদনে তলব করেছিল রাজ্যের বর্তমান মুখ্যসচিবকে। শনিবার জানা যায়, ওই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যকে সময় দিয়েছে কমিশন। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই পদক্ষেপ করল নবান্ন।
ওই চার আধিকারিক হলেন তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্তচৌধুরী, বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাস। তাঁদের মধ্যে বারুইপুর পূর্বের ইআরও এবং এইআরও হিসাবে কাজ করছিলেন দেবোত্তম ও তথাগত। আর ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে ওই দুই দায়িত্বে ছিলেন বিপ্লব এবং সুদীপ্ত। দেবোত্তম দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসাবে কাজ করেন। তথাগত জয়নগর-১ ব্লকের ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, বিপ্লব পূর্ব মেদিনীপুরের সংখ্যালঘু বিষয়কের জেলা অফিসার, সুদীপ্ত তমলুক ব্লকের পঞ্চায়েত অ্যাকাউন্ট এবং অডিট অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও, সুরজিৎ হালদার নামে ডেটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন।