—প্রতীকী চিত্র।
সিঙ্গুরে কারখানা না-হওয়ায় টাটা গোষ্ঠীকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছিল আরবিট্রেটর ট্রাইবুনাল। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য শিল্পোন্নয়ন নিগম। বৃহস্পতিবার নিগমের আর্জি খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়। মামলা খারিজের পাশাপাশি নিগমকে ৫০ হাজার টাকার অর্থদণ্ড দিয়েছেন তিনি। বিচারপতি রায় বলেছেন, ক্ষতিপূরণের নির্দেশ আপাতত আট সপ্তাহ স্থগিত থাকবে। এই সময়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত হিসাব ও তা মেটানোর জন্য নগদ এবং সম্পত্তির হিসাব দিতে হবে নিগমকে। আট সপ্তাহ পরে স্বাভাবিক ভাবেই স্থগিতাদেশ উঠে যাবে।
বাম আমলে সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠীর গাড়ি তৈরির কারখানা তৈরির পরিকল্পনা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে যে আন্দোলন পালাবদলের সূচনা করেছিল। টাটারা কারখানা সরিয়েও নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে কারখানা না হওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার ও শিল্পোন্নয়ম নিগমের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করে টাটারা। সেই মামলায় ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর তিন সদস্যের আরবিট্রেশন ট্রাইবুনাল নির্দেশ দেয়, নিগমের কাছ থেকে বার্ষিক ১১ শতাংশ সুদ-সহ ৭৬৫ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবে টাটা মোটরস। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল নিগম।
বিচারপতি রায়ের নির্দেশ অনুসারে, এ দিন পর্যন্ত আসল এবং সুদ-সহ ক্ষতিপূরণের মোট অঙ্ক হিসাব করে আট সপ্তাহের মধ্যে হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার (অরিজিনাল সাইড)-কে দিতে হবে এবং তাঁর অনুমতি সাপেক্ষে নিগমের এমডি বা চেয়ারম্যান কলকাতা-সহ রাজ্যে নিগমের মোট অস্থাবর সম্পত্তির তালিকা ও মূল্য় জমা দেবেন। নিগমকে এই মর্মে হলফনামা দিতে হবে যে হলফনামা দেওয়ার আট সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিপূরণ টাটা মোটরসকে মিটিয়ে দেওয়া হবে। যদি দেখা যায় যে অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ক্ষতিপূরণের অঙ্কের থেকে কম, তা হলে বাকি অর্থের ক্যাশ সিকিয়োরিটি জমা দিতে হবে। অস্থাবর সম্পত্তি দিয়ে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক সামাল দেওয়া না-গেলে ক্ষতিপূরণের সমপরিমাণ অর্থ নগদে জমাদিতে হবে।
প্রসঙ্গত, এই মামলায় ট্রাইবুনাল যখন রায় দিয়েছিল সে সময় রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল। কিন্তু দিন কয়েক আগেই তৃণমূল সরকারের পতন হয়েছে। নতুন সরকার এখনও তৈরি হয়নি। নতুন সরকার তৈরি হওয়ার পরে এই মামলায় তারা কী পদক্ষেপ করবে, তা নিয়েও চর্চাশুরু হয়েছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে