Security Arrangement

কল্যাণ-অরূপ-কুণাল থেকে রাজ্যের দুই অবসরপ্রাপ্ত ডিজির নিরাপত্তায় কাটছাঁট! বাড়ির সামনে থেকে সরছে পুলিশি প্রহরা

শনিবার এক নির্দেশিকা জারি করে নিরাপত্তা প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, তালিকায় থাকা ভিআইপি-দের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মুল্যায়ন করা হয়েছে। কয়েক জনের প্রাণের ঝুঁকির মাত্রা পুনর্মূল্যায়ন করে নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ নির্দেশিকায়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ২২:৩০
Share:

(বাঁ দিক থেকে) কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস এবং কুণাল ঘোষ। — ফাইল চিত্র।

মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক সিদ্ধান্তের কথা জানাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। দিন কয়েক আগে রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, কেউ যেন প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা না-পান তা নিশ্চিত করতে হবে। তার পরেই ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কাটছাঁট শুরু হয়। এ বার আরও ১০ জনের নিরাপত্তা নতুন করে সাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, তাঁদের বাড়ির সামনে যে নিরাপত্তা বলয় থাকত, তা আর থাকবে না। সেই তালিকায় রয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস থেকে শুরু করে রাজ্যের দুই প্রাক্তন ডিজি।

Advertisement

শনিবার এক নির্দেশিকা জারি করে নিরাপত্তা প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, তালিকায় থাকা ভিআইপিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মুল্যায়ন করা হয়েছে। কয়েক জনের প্রাণের ঝুঁকির মাত্রা পুনর্মূল্যায়ন করে নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ নির্দেশিকায়। কল্যাণ, অরূপ ছাড়া রাজ্য পুলিশের দুই অবসরপ্রাপ্ত ডিজি মনোজ মালবীয়, রাজীব কুমার। এর মধ্যে রাজীব বর্তমানে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ।

এ ছাড়াও কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা তৃণমূল নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের পুলিশ প্রহরা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, প্রাক্তন ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, আইনজীবী সঞ্জয় বসু এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রশান্তকিশোর পাণ্ডে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, এই তালিকায় থাকা কল্যাণ এবং রাজীব— দু’জন সাংসদ হিসাবে যে নিরাপত্তা বরাদ্দ রয়েছে, সেই নিরাপত্তাই পাবেন তাঁরা। অরূপ রাজ্যের মন্ত্রী হিসাবে যে নিরাপত্তা পেতেন, তা এখন থাকছে না। কারণ বর্তমানে তিনি মন্ত্রী বা বিধায়ক নন। সারদা মামলায় জামিন পাওয়ার পরে কুণাল আশঙ্কা করেছিলেন, তাঁর উপর হামলা হতে পারে। সেই কারণে আদালতের নির্দেশে তাঁকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি বিধায়ক। বিধায়কেরা যে নিরাপত্তা পান, সেই নিরাপত্তাই শুধু বজায় থাকবে কুণালের ক্ষেত্রে। সঞ্জয় বা প্রশান্তের ক্ষেত্রে আগের সরকার বাড়তি নিরাপত্তা বন্দোবস্ত করেছিল। তবে বর্তমান সরকার এই দু’জনের ক্ষেত্রে বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করছে না, সেই কারণে কাটছাঁট হল পুলিশি প্রহরায়। পীযূষ বর্তমানে ডিজি নেই, তা-ই সেই সময় তিনি যে নিরাপত্তা পেতেন, তা পাবেন না। ডিজি পদমর্যাদার আধিকারিক হিসাবে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বজায় থাকবে পীযূষের ক্ষেত্রে।

গত সোমবার নবান্নে একাধিক বৈঠক করেছিলেন শুভেন্দু। প্রথমে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক ছিল তাঁর। তার পরে জেলাশাসক এবং পুলিশের উচ্চ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে রাজনীতিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, কোনও রাজনীতিকের প্রকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি না-থাকে তবে তাঁকে অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়া হবে না। এ-ও প্রশ্ন তোলেন, শুধুমাত্র প্রভাব বা মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য কেন সরকারি অর্থ ব্যয় করা হবে? তার পর পরই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কোপ পড়ে। তুলে নেওয়া হয় তাঁর ‘জ়েড প্লাস’ নিরাপত্তা। শুধু তা-ই নয়, অভিষেক যে বিশেষ পাইলট কারের সুবিধা পেতেন, তা-ও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার আগে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ি এবং ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের সামনের পুলিশি নিরাপত্তা সরিয়ে নেয় কলকাতা পুলিশ।

তবে শুভেন্দু স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও রকম আপস করা যাবে না। প্রশাসন সূত্রে খবর, কলকাতা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন, যাতায়াত এবং জনসভা বা রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। নিরাপত্তা বলয়ে কোনও ধরনের ফাঁক বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement