মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।
নগরোন্নয়ন প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিশেষ আর্থিক সাহায্য চাইতে চলেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম পাল্টে তা রাজ্য সরকারের প্রকল্প বলে চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। আগামী দিনে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি পুরনো নামে ফিরে যাবে বলেও আজ জানিয়েছেন রাজ্যের নবনিযুক্ত পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
দীর্ঘ প্রায় এক দশকের বেশি সময়ের খরা কাটিয়ে আজ কেন্দ্রের ‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযানে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। ওই বৈঠকের শেষে তিনি জানান, ‘‘রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে উৎসাহী কেন্দ্রীয় আবাস ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর। ২৯-৩১ মে-র মধ্যে এক দিন তিনি কলকাতা যাবেন। সেই সময়ে বৈঠকে বিস্তারিত কথাবার্তা হবে।’’ ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণে রাজ্যের জন্য বিশেষ আর্থিক সাহায্য চাওয়ার কথাও ভাবা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে রাজ্যের প্রায় দু’শো কোটি টাকা কেন্দ্রের ঘরে পড়ে রয়েছে। আজ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে রাজ্যকে আশ্বাস দিয়ে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার প্রকল্প জমা দিলেই কেন্দ্র ওই টাকা ছেড়ে দেবে। অর্থের অভাবে কোনও প্রকল্প থমকে থাকবে না। খুব দ্রুত প্রকল্প পাঠানো হবে বলে জানান অগ্নিমিত্রা।
ফি বছর দেশের শহরগুলির পরিচ্ছন্নতার মাপকাঠির ভিত্তিতে স্বচ্ছ সর্বেক্ষণ পুরস্কার দিয়ে থাকে কেন্দ্র। গত সাত বছর ধরে ধারাবাহিক ভাবে ওই পুরস্কার জিতে আসছে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহর। এত দিন পশ্চিমবঙ্গ ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়নি। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পরে পশ্চিমবঙ্গ এ বার তাতে অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন, ‘‘দুর্গাপুর, আসানসোল, দার্জিলিং ও কালিম্পং-এর মতো শহরগুলি আগামী বছরে ওই প্রতিযোগিতায় যোগ দেবে।’’ ঠিক হয়েছে শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে দিনে দু’বার গোটা শহরের বড় রাস্তা ঝাঁট দিয়ে পরিষ্কার করার পাশাপাশি ছোট-ছোট অলি-গলিও পরিষ্কার করা হবে। বিশেষ ভাবে জোর দেওয়া হবে বর্জ্য পৃথকীকরণের উপরেও। অগ্নিমিত্রার কথায়, ‘‘আমাদের বর্জ্য জমা করার জায়গাগুলি উপচে পড়ছে। সেখানে ইন্দোর শহরে কোনও বর্জ্য ফেলার জায়গা নেই। কারণ বাড়ি-বাড়ি সংগৃহীত বর্জ্য সোজা প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটে চলে যায়।’’ বাংলাতেও আগামী দিনে সেই মডেল দেখা যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও পরিচ্ছন্নতার প্রশ্নে রাজ্যবাসীর সচেতনতা বৃদ্ধির উপরেও জোর দিয়েছেন তিনি। সামনেই বর্ষা। আগামী দিনে জমা জলের সমস্যা দূর করতে চলতি সপ্তাহেই নর্দমা সাফাই নিয়ে একটি বৈঠক হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা।
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের অন্যতম অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম পাল্টে তা রাজ্য সরকারের নামে চালিয়ে কৃতিত্ব নিচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ অগ্নিমিত্রা জানান, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নামেই কেন্দ্রীয় প্রকল্প চলবে রাজ্যে। ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’ কখনওই ‘বাংলার বাড়ি’ নামে চলতে পারে না। আগের সরকার বাংলার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুললেও অগ্নিমিত্রাদের কথায়, তৃণমূল সরকার কেন্দ্রের কাছে কোনও প্রকল্প না পাঠানোয় কেন্দ্রীয় অর্থের ষাট শতাংশ পড়ে রয়েছে। পাশাপাশি আগের সরকারের আমলে পুর ও নগরোন্নয়ন ক্ষেত্রে যে কাজ হয়েছে তাতে নানা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অডিটের পরেই সেই সব বকেয়া অর্থ ছাড়া হবে বলে জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে