গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বিভ্রান্তি ও আশঙ্কার মধ্যে জেলায়-জেলায় অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বা আবেদনপত্র বিলি শুরু হয়েছে শুক্রবার থেকে। ‘ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ (ডিবিটি)-এর জন্য সাইবার ক্যাফে ও ডাকঘরের সামনে আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নম্বর সংযুক্ত করার দীর্ঘ লাইন পড়ছে প্রতিদিন। মহিলাদের একাংশের ক্ষোভ, এই দুর্ভোগের সঙ্গে জুড়েছে ফর্মপূরণ নিয়ে বিভ্রান্তি। ফর্মে পরিবার সম্পর্কে বহু খুঁটিনাটি তথ্য কেন চাওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “পর্যালোচনা করছি, যদি আবেদনের পদ্ধতির কোনও সরলীকরণ করা যায়।”
নদিয়ার হোগলবেড়িয়ার টুসি বিশ্বাস বলেন, “যৌথ পরিবারে অনেকে থাকেন। সকলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়। আর অন্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নম্বর চাইতে গেলে, তিনি না-ও দিতে পারেন।” দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের তানজুরা বিবি বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পরে, তাঁর পাকা বাড়িতে থাকি ছেলেকে নিয়ে। অথচ, পরিবারের তেমন কোনও আয় নেই। জানি না টাকা পাব কি না!” বাঁকুড়ার বিকনা এলাকার এক বধূ বলছেন, “স্বামীর ছোট দোকান। আয়কর দেন। দ্বিগুণ টাকা পাওয়ার আশায় সবাইকে বিজেপিতে ভোট দিতে উৎসাহ দিয়েছিলাম। এখন মনে হচ্ছে, আমরাই টাকা পাব না।” জলপাইগুড়ির বিন্দু রায় বলেন, “বাচ্চাদের টিকাকরণেরও তথ্য চাইছে, সে কাগজ এখন কোথায় পাব?”
ফর্ম পূরণের জটিলতা নিয়ে মুখ খুলেছেন নদিয়ার ধানতলার রাখি বিশ্বাস। তাঁর স্বামী মারা গিয়েছেন সাত বছর আগে, ছেলে দিনমজুর। রাখির কথায়, “আমাদের মতো মানুষের পক্ষে আবেদনপত্র পূরণ করা মুখের কথা নয়। ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এ টাকা কম পেলেও, এত ঝামেলা ছিল না!” মুর্শিদাবাদের ডোমকলের পারুলা বিবি বলছেন, “এসআইআরের জন্য কাগজপত্র নিয়ে দৌড়েছি। অন্নপূর্ণার ফর্ম দেখে মনে হচ্ছে, আরও কয়েক মাস দৌড়তে হবে কাগজের পিছনে।” পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপি সদস্য কাকলি মণ্ডলও বলেন, “এখন লক্ষ্মীর ভান্ডারে টাকা পাচ্ছি। আমাদের রাজ্য সরকার অন্নপূর্ণা যোজনার যে ফর্ম দিয়েছে, সেটা বেশ জটিল। সরকারের উচিত ফর্ম সহজ-সরল করা।”
ফর্ম পূরণে সাহায্যের জন্য প্রতিটি ব্লক অফিসে ‘সহায়তা কেন্দ্র’ খোলা হয়েছে। ‘বাংলা সহায়তা কেন্দ্র’-এও এই বিষয়ে সাহায্য মিলবে। কোথাও পুরসভাও সাহায্য করছে। পঞ্চায়েতে ‘হেল্প ডেস্ক’ হবে বলেও প্রশাসন সূত্রের খবর।
আবেদনপত্র সরল করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। সিপিএমের নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, “ভোটের আগে বিজেপি বলেছিল, মহিলারা যে ১৫০০ টাকা পেতেন, সেটাই তিন হাজার টাকা হবে। অসত্য বলে ভোট নেওয়া হয়েছে, দেখা যাচ্ছে! ঘুরপথে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) কাজ হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।”
তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মেদিনীপুরে বলেন, “তিন-চার পাতা এমন রয়েছে, যেখানে শুধু টিক দিতে হবে। তিন পাতা এমন রয়েছে, যাঁরা সিএএ (সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন)-তে আবেদন করেছেন, শুধু তাঁদের জন্য। অন্যদের সেখানে হাতই দিতে হবে না। তিন পাতা শুধু লিখতে হবে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে