দক্ষিণে ঝেপে বৃষ্টি। উত্তর শুকনো খটখটে। দক্ষিণে যেখানে বীজতলা ডুবে চাষিদের মাথায় হাত সেখানে উত্তরেও অনাবৃষ্টি এবং তাপমাত্রার জেরে আমন ধান চাষে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে ধানের বীজতলা রোপণ শুরু হয়ে গিয়েছে উত্তরে। কিন্তু জলের অভাবে উঁচু জমির বীজতলার অবস্থা ভাল নয়। নিচু জমিরও জল শুকিয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে বৃষ্টি খুব প্রয়োজন। না হলে ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার অনেকেই এখনও বৃষ্টির আশা করে বীজতলা রোপণে নামেননি। সেটা আরও ক্ষতিকর। দেরি না করে এই মুহূর্তেই বীজতলা রোপণ করা উচিত।
আসলে ধান চাষে প্রচুর জল লাগে। এখন সেচের জল ব্যবহার করা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। কেউ যদি পুকুর কেটে জল ধরে রাখেন সেই জলও পাম্পসেট দিয়ে ক্ষেতে দেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে চাষির খরচ অনেকটা বাড়লেও ফসল বেঁচে যাবে। প্রতি দিন না হলেও এক দিন অন্তর জল দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে ধান ক্ষেতে।
অনাবৃষ্টির জেরে ধান ক্ষেতে আগাছার আক্রমণ হতে পারে এই সময়। সেক্ষেত্রে জাপানি ধান নিড়ানি যন্ত্র দিয়ে সারির মাঝে-মাঝে কাদা ঘেঁটে দিয়ে আগাছা নষ্ট করে দিতে হবে। ইউরিয়া সার দেওয়া যেতে পারে।
তবে চাষিদের এবারে বিনা কর্ষণে চাষের দিকে নজর দেওয়া উচিত। আমরা এই ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছি। পরীক্ষামূলক ভাবে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় কিছু জমিতে চাষও হয়েছে। এতে জমিতে জলের পরিমাণ কম লাগে। যা এমন আবহাওয়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত। এখন জমি কাদা করে বীজতলা রোপণ করা হয়। বিনা কর্ষণের ক্ষেত্রে জমি কাদা করার প্রয়োজন নেই। মেশিনের সাহায্যে বীজতলা রোপণ করা যায়। তাতে ফলন তুলনামূলক ভাবে বেশি হয়। আবার চাষের খরচও কম লাগে।
এ দিকে, বৃষ্টি না হওয়ায় খাল, পুকুরগুলিতেই জল কম। ফলে পাট পচানোর ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। পাঁটের আশ কালো হয়ে যেতে পারে। এর জন্য এক কেজি পাতি লেবু বা তেঁতুল এক লিটার জলে গুলে নিন। তাতে পাঁচ লিটার জল মিশিয়ে পাটের আশ পাঁচ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে কালো রং ধুয়ে যাবে।
জলদি জবাব
আপনার প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন উদ্যানপালন দফতরের সহ-অধিকর্তা
পার্থপ্রতিম পাল ও ইফকো-র আঞ্চলিক অধিকর্তা পার্থ ভট্টাচার্য।
বেগুন গাছে পিঁপড়ে লেগে যাচ্ছে। গাছ মরে যাচ্ছে। কী করব?
prithwirajmaje@gmail.com
গাছের গোড়ায় অতিরিক্ত জল যেন না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। পিঁপড়ের জন্য কার্বোফিউরন ২ গ্রাম গাছ প্রতি গোড়ায় মাটিতে ছড়িয়ে দিতে হবে।
বর্ষার আগে বাড়ির জবা গাছ অতিক্ষুদ্র সাদা কীটে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। বাজারে চলতি ওষুধ কাজ করছে না। কী করব?
অয়নকুমার জানা, তমলুক
খুব বেশি পোকা লাগলে নিমতেল প্রয়োগ করুন। নয়তো এমিডা ক্লোরোপিড এক মিলি প্রতি চার লিটার জলে গুলে গাছে স্প্রে করতে হবে।
কলমের জবা টবে লাগিয়েছি। কুঁড়ি অবস্থায় ঝরে যাচ্ছে। কী করব?
স্বপ্ননীল রুদ্র।
ছোট গাছ হলে গাছটিকে আগে ডালপালা ছড়িয়ে বাড়তে দেওয়া উচিত। টবে মিউরিয়েট অফ পটাশ এবং ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট এবং ইউরিয়া দিতে হবে। যেহেতু গাছের বয়স জানা নেই, সেহেতু পরিমাণ বলা গেল না।
পেয়ারায় পোকা হয়েছে। কী করব?
achintabera@yahoo.in
ফলছিদ্রকারী পোকা হলে কার্বারিল ২.৫ গ্রাম / নিম তেল ২ মিলি প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে হবে। ফলের মাছি হলে ম্যালাথিয়ন দেড় মিলি প্রতি লিটার জলে গুলে ১৫-২০ দিন অন্তর স্প্রে করতে হবে।
পেয়ারার ভাল ফলন হচ্ছে। কিন্তু ভিতরে পোকা। গোড়ায় দানা বিষ দিয়েছি। লাভ হচ্ছে না।
মথুরাপ্রসাদ, নলহাটি
পোকা হচ্ছে ফলে, কিন্তু দানা বিষ দিয়েছেন গোড়ায়। এতে লাভ হবে না। প্রতিকার স্বরূপ কার্বারিল ২.৫ গ্রাম/ নিম তেল ২ মিলি প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে হবে।
১৫ বছরের আতাগাছ আছে। এমনিতে প্রতি বছর ফল পাই। কিন্তু এবার কিছু ফল শুকিয়ে-কালচে হয়ে পড়ে গিয়েছে।
সব্যসাচী মাইতি
ধরার পড়ে এম:পি:কে ১৮:১৮:১৮ এক শতাংশ হারে স্প্রে করতে হবে।
দহি পোকা লেগে গাছগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কী ওষুধ দেব?
deb42643@gmail.com
একটা টোটকা রইল। সন্ধেবেলা বরফ গোলা জল আঠা হিসাবে কাদামাটি সহযোগে স্প্রে করুন (১০ লিটার জলে ৫০-৬০ গ্রাম কাদামাটি ছাকনি দিয়ে ছেঁকে)।
বাগানে ঘৃতকুমারী গাছের পাতাগুলোতে কালো ছোপ ছোপ দাগ পড়ে যাচ্ছে। কী করণীয়।
সুব্রত জানা, রামচক, বাঘাদাঁড়ি।
ম্যানকোজেব ও কার্বেন্ডাইজিন মিশ্রিত ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার জলে দুই থেকে আড়াই গ্রাম আঠা সহকারে স্প্রে করুন।
সুযোগ সুবিধা
• পঞ্চায়েত থেকে জেলা—পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় তিন স্তরে শুরু হল মত্স্য চাষ নিয়ে প্রশিক্ষণ শিবির। বর্ষার সময়েই পুকুরে মাছের চারা ছাড়া হয়। কিন্তু কী ভাবে তা করতে হবে, সে ব্যাপারে মত্স্যচাষিদের স্বচ্ছ ধারণা থাকে না। চারা ছাড়ার আগে পুকুরের বাঁধ বেঁধে ফেলা জরুির। ভারী বর্ষণ হলে পুকুরের জল বার করার প্রয়োজন রয়েছে। নিকাশিনালার দিকে রাখতে হবে জালের ব্যবস্থা। চুন দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে পুকুরের জল। উন্নত পদ্ধতিতে মাছ চাষের আরও তথ্য জানাতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা মত্স্য দফতরের উদ্যোগে এই প্রশিক্ষণ শিবিরগুলো হচ্ছে। মত্স্য বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর উত্পল শর বলেন, “পঞ্চায়েত স্তরে প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে গিয়েছে। ব্লক ও জেলা স্তরেও প্রশিক্ষণ শিবির হবে।”
• বৃষ্টির জলে বীজতলা ডুবে গিয়ে চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীর কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার আশ্বাস দিয়েছেন, ‘‘ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা ক্ষতিপূরণ পাবে ঠিক। তবে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক এখনও ঠিক হয়নি। জল না নামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে চাষিদের। ক্ষতিপূরণের টাকা অ্যাকাউন্ট পেয়ি চেকের মাধ্যমে ঠিক সময়ে পৌঁছে যাবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত চাষির কাছে।’’
• কোচবিহারের মাথাভাঙ্গা ১ ব্লকের চাষিদের জন্য আগামী ৭ থেকে ১০ অগস্ট পর্যন্ত একটি প্রশিক্ষণ শিবির হবে। জলবিভাজিকা প্রকল্প থেকে চাষিরা কী ধরনের সুবিধা পেতে পারেন তা তুলে ধরা হবে। উৎসাহী চাষিদের কোচবিহার কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।
• ১-১৪ অগস্ট চাষ সংক্রান্ত পরামর্শ দিতে শিবিরের আয়োজন করেছে নাবার্ড। কোচবিহারের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে ওই শিবির করা হবে। আগ্রহীরা সরাসরি যোগাযোগ করুন বিজ্ঞান কেন্দ্রে।
• কালচিনি ব্লকের আদিবাসী সম্প্রদায়ের কৃষকদের জন্য কেঁচো সারের উপরে কর্মশালা হবে। কোচবিহারের পুণ্ডিবাড়ি ব্লকের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে উৎসাহীরা যোগাযোগ করে নাম নথিভুক্ত করাতে পারেন।
চাষের দিশা, আনন্দবাজার পত্রিকা,
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা ৭০০০০১।
ই-মেল করুন: district@abp.in