ঠিক যেন গত পুরভোটের কার্বন কপি!
গত এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গের ৯১টি পুরসভার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রশ্নে প্রায় অন্তিম লগ্ন পর্যন্ত নবান্নের সঙ্গে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দড়ি টানাটানি চলেছিল। আগামী ৩ অক্টোবরে হতে চলা দু’টি পুরনিগম, হাওড়া পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ড ও শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের নির্বাচন ঘিরেও একই পরিস্থিতি। যার জেরে ভোটের তিন দিন আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে ফের দিল্লিকে চিঠি দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
বস্তুত রাজ্য সরকার যে এই ভোটেও কেন্দ্রীয় বাহিনী চায় না, আগেই তা মালুম হয়েছিল। বিরোধীদের দাবি ছিল ঠিক উল্টো। এপ্রিলের পুরভোট শেষমেশ কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়াই হয়েছে। এ বারও তেমনই হওয়ার অধিক সম্ভাবনা দেখছেন প্রশাসন ও রাজনীতির কারবারিদের একাংশ। এই মহলের ধারণা, হাতে যা সময়, তাতে শনিবারের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে ভোট করা কার্যত অসম্ভব।
নবান্নের খবর, চলতি মাসের গোড়ায় ভোটের দিন ঘোষণা হয়েছে। তার বেশ ক’দিন বাদে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে চিঠি দেয় রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ২৩ সেপ্টেম্বর মন্ত্রক জবাবে জানায়, রাজ্যে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনীর থেকেই ৬ কোম্পানিকে ভোটের কাজে লাগানো হোক। কিন্তু সেটা করা যাচ্ছে না। কেন?
কারণ, রাজ্য সরকারের আপত্তি। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায় বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের চিঠির প্রতিলিপি নবান্নে পাঠানো হয়েছিল। সোমবার উত্তরে স্বরাষ্ট্র-সচিব জানান, পশ্চিমবঙ্গের তিন জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। জঙ্গলমহলে, দার্জিলিঙে ও আলিপুরদুয়ারে। গোয়েন্দা-রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই সব তল্লাট থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী সরালে নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। অতএব, রাজ্য সেই ঝুঁকি নিতে পারছে না।
অগত্যা বাহিনী চেয়ে এ দিন ফের দিল্লিতে চিঠি পাঠিয়েছেন সুশান্তবাবু। তাঁর কথায়, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতেই আমি সরাসরি কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছি।’’ বিরোধীদের একাংশ অবশ্য পুরো ঘটনাটিকে ‘সাজানো’ আখ্যা দিচ্ছে। তাদের বক্তব্য: পশ্চিমবঙ্গে মজুত বাহিনীকে ভোটের কাজে ব্যবহার করতে বলল দিল্লি। রাজ্য একতরফা ভাবে তা উড়িয়ে দিল। অথচ কমিশন রাজ্যকে কোনও প্রতিক্রিয়াই জানাল না! নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া না-থাকলে এমন কাণ্ড অসম্ভব বলেই এই মহলের পর্যবেক্ষণ। ‘‘চিঠি-চাপাটির সময়কাল দেখলেই ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়।’’— মন্তব্য এক বিরোধী নেতার।
শনিবারের ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে বামেরা এ দিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে। পরে প্রতিনিধিদলের নেতা রবীন দেব বলেন, ‘কমিশনের সিদ্ধান্ত বুধবারের মধ্যে জানানোর কথা। কমিশন কথা না-রাখলে বড় অন্দোলনে নামব।’’ রাজ্য বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসুর দাবি, ‘‘শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচনের দায়িত্ব রাজ্য ও কমিশনকে নিতে হবে।’’ বিজেপি-র রাজ্য পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের অভিযোগ, ‘‘এই সরকারের আমলে রাজ্যে অবাধ ও নিরপেক্ষ পুরভোট হওয়া সম্ভব নয়।’’
২০১৬-র বিধানসভা ভোট কেন্দ্রীয় বাহিনীর তত্ত্বাবধানে ‘অন্য রকম’ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজয়বর্গীয়।