নিজের অঙ্কেই বন্ধু খুঁজতে দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী

জোট নয়, তবে ভবিষ্যতের জন্য সব সম্ভাবনার দরজা খোলা রেখেই বুধবার দিল্লিতে একমঞ্চে আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-মানিক সরকার-অরবিন্দ কেজরীবালরা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৩:১৯
Share:

জোট নয়, তবে ভবিষ্যতের জন্য সব সম্ভাবনার দরজা খোলা রেখেই বুধবার দিল্লিতে একমঞ্চে আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-মানিক সরকার-অরবিন্দ কেজরীবালরা।

Advertisement

বিরোধীদের সকলেরই দাবি, নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের মনে এখন অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের আরও চার বছর বাকি। সেটা বুঝেই এখন বিরোধী দলগুলি নিজেদের পাশাপাশি রেখে কাজ করতে উদ্যোগী। জোট নয়, তবে ভবিষ্যতে হতেও পারে হয়তো! এমন ভাবনা থেকেই এক মঞ্চে পাশাপাশি থাকার উদ্যোগ! ৩০ তারিখ কেজরীবালের উদ্যোগে যে সম্মেলন, তাতে আপাতত রাজ্যের হাতে বেশি ক্ষমতা দেওয়ার দাবি তোলা হবে। কিন্তু আসলে মোদী সরকার তথা বিজেপি বিরোধিতার সুরকেই আস্তে আস্তে চড়ায় তোলা যে এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য, সে বিষয়ে সব দলের নেতারাই একমত।

বুধবার মুখ্যমন্ত্রীদের ওই সম্মেলনে কেজরীবাল সমস্ত অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মমতা সোমবার রাতেই দিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার দলের পলিটব্যুরো বৈঠকের জন্য শনি-রবি দিল্লিতেই ছিলেন। বুধবারের সম্মেলনের জন্য তিনি দিল্লিতেই রয়ে গিয়েছেন। নীতীশ কুমার বিহারের ভোট নিয়ে ব্যস্ত। তিনি বা অখিলেশ সিংহ যাদব না এলেও তাঁদের কোনও প্রতিনিধিকে পাঠাবেন। সকলেই এই মঞ্চকে কাজে লাগাতে উৎসাহী। যার সব থেকে বড় প্রমাণ, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যুযুধান দুই দলের মুখ্যমন্ত্রী এক মঞ্চে আসতে রাজি। রাজনীতিকরা বলছেন, একসময় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এ ভাবেই একমঞ্চে এসেছিল বাম ও বিজেপি। ১৯৮৯-এ কাজটা করে দেখিয়েছিলেন বিশ্বনাথপ্রতাপ সিংহ। তখন রাজীব গাঁধীর বিরুদ্ধে বোফর্স কেলেঙ্কারির অভিযোগকে হাতিয়ার করে অ-কংগ্রেসি দলগুলিকে একজোট করেছিলেন বিশ্বনাথপ্রতাপ। এ বার বিজেপি যখন সুষমা স্বরাজ-বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া-শিবরাজ সিংহ চৌহানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে কোণঠাসা, সেই সময় একই কৌশল নিচ্ছেন মমতা-মানিকরা।

Advertisement

সকলেই যদিও পাশাপাশি আসছেন নিজস্ব অঙ্কে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই জাতীয় রাজনীতিতে নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখতে উৎসাহী। অসাম্প্রদায়িক দলগুলির মধ্যে কতটা সমন্বয় রয়েছে, এই মঞ্চের মাধ্যমে সেই জলও মেপে নিতে চান তিনি। একই সঙ্গে মোদী সরকারের উপর একটি ‘প্রেশার গ্রুপ’ তৈরি করতে চান মমতা। কেন্দ্রের হাত থেকে দিল্লির রাজ্য সরকারের জন্য আরও বেশি ক্ষমতা আদায় করতে কেজরীবালের লড়াইও অব্যাহত। সে জন্য এই মঞ্চকে কাজে লাগাতে চান তিনি। বামেরাও কেন্দ্রের বিরোধিতার সুযোগ ছাড়তে রাজি নন। সিপিএম পলিটব্যুরোর এক নেতার যুক্তি, ‘‘বিজেপি লোকসভায় ৩১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। পাটিগণিতের হিসেবে বাকিরা একজোট হলেই বিজেপি ধরাশায়ী হয়। কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব নয়। তবু চেষ্টা করতে হবে।’’

আঞ্চলিক দলগুলিকে নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের এই লড়াইয়ে একসময় নেতৃত্ব দিতেন জ্যোতি বসু। ১৯৮৩-তে বাম, ডিএমকে, অকালি, তেলুগু দেশম, ন্যাশনাল কনফারেন্সের মতো দলগুলি ‘শ্রীনগর কনক্লেভ’-এ একমঞ্চে এসেছিল। সেই চাপেই কেন্দ্রকে সরকারিয়া কমিশন তৈরি করতে হয়।

Advertisement

বুধবার মমতা-কেজরীবালদের ‘দিল্লি কনক্লেভ’ কেন্দ্রের উপরে কতটা চাপ তৈরি করতে পারে, সেটাই দেখার।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement