বাইসনের গুঁতোয় উল্টে গেল জিপসি

মাস ছ’য়েক আগে হাতির পিঠ থেকে পিছলে সটান বাইসনের মুখোমুখি পড়ে যান এক পর্যটক। সে ঘটনা, গরুমারা জাতীয় উদ্যানের। বৃহস্পতিবার, লাটাগুড়ির জঙ্গল ভ্রমণে জিপসি সাফারি করতে গিয়ে পর্যটকেরা সরাসরি গুঁতো খেলেন। উল্টে পড়ল জিপসি। এবং এ বারও ‘সৌজন্য’ বাইসন।

Advertisement

সব্যসাচী ঘোষ

শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:৪৬
Share:

মাস ছ’য়েক আগে হাতির পিঠ থেকে পিছলে সটান বাইসনের মুখোমুখি পড়ে যান এক পর্যটক। সে ঘটনা, গরুমারা জাতীয় উদ্যানের।

Advertisement

বৃহস্পতিবার, লাটাগুড়ির জঙ্গল ভ্রমণে জিপসি সাফারি করতে গিয়ে পর্যটকেরা সরাসরি গুঁতো খেলেন। উল্টে পড়ল জিপসি। এবং এ বারও ‘সৌজন্য’ বাইসন। প্রশ্ন উঠেছে, পর্যটকদের বন্যপ্রাণের ‘রিয়াল লাইফ’ দেখাতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনছেন না তো পর্যটন ব্যবসায়ীরা?

এ দিন, মালদহের কয়েকজন পর্যটক বাইসনের লড়াই দেখতে জিপসি নিয়ে একেবারে তাদের হাত কয়েকের মধ্যে চলে গিয়েছিলেন। এক বনাধিকারিকের কথায়, ‘‘সাহসের বেড়াটা একটু বেশিই ডিঙিয়েই ফেলার খেসারত দিতে হয়েছে ওই পর্যটকদের। ভাগ্য ভাল কেউ আহত হননি।’’ ওই পর্যটকদের এক জনের অভিজ্ঞতা, ‘‘নিজেদের মধ্যেই লড়াই করছিল বাইসন দু’টি। আচমকা একটি বাইসন আমাদের জিপসির উপরে এসে পড়ে। উল্টে যায় জিপসি।’’

Advertisement

পর পর এমন দু’টি ঘটনায় ভাঁজ পড়েছে বনকর্তাদের কপালে। উদ্বিগ্ন পরিবেশপ্রেমীরাও। এই প্রবণতার জন্য যেমন দায়ী পর্যটকেরা, তেমনই দায়ী বনকর্মীরাও।

এক বনাধিকারিক জানান, লাটাগুড়ি রেঞ্জের যে এলাকাতে জঙ্গল সাফারি চলে, সেখানে গাইড এবং চালকদের উপরে নজরদারি করার কেউ নেই। পর্যটকেরা মাহুত, গাইড বা চালকদের একশো-দেড়শো টাকা টিপস দিয়ে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার আবদার করেন। জঙ্গলের মধ্যে ২৫ কিলোমিটারেরও বেশি পথ ধরে জিপসি সাফারির নির্দিষ্ট রুট রয়েছে। কিন্তু সেই রুট খেয়াল খুশি মতো বদলে বিপজ্জনক পথে জিপসি ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ। হাতিকে কাছে টানতে তাদের প্রিয় খাদ্য বাঁধাকপি, চালতাও নিয়ে যাওয়া হয় অনেক সময়ে।

Advertisement

জলপাইগুড়ির ডিএফও বিদ্যুৎ সরকার বলেন, ‘‘রুটের বাইরে গাড়ি নিয়ে গেলে গাইড ও চালকদের দু’তিন দিনের জন্য সাসপেন্ডও করা হয় সেটা যে যথেষ্ট নয়, এ ঘটনা থেকেই তা স্পষ্ট।’’ তবে গাইডদের কয়েকজনের বক্তব্য, প্রথাগত পথে হাতি-বাইসনের দেখা না মিললে পর্যটকরা বিরক্ত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতেই তখন আরও গভীরে যেতে হয়। সমস্যা বাড়ে তাতেই।

(সহ প্রতিবেদন: দীপঙ্কর ঘটক)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement