বিদ্যুতের অপচয় বন্ধে অস্ত্র নাটক-লোকগান

বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার সঙ্গে গ্রাহকের টানাপড়েন অনেক দিনের। এখনও বেশ কিছু জেলা রয়েছে যেখানে ১০০ টাকার বিদ্যুৎ বিক্রি করে অর্ধেকও আদায় হয় না।

Advertisement

পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:৫০
Share:

বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার সঙ্গে গ্রাহকের টানাপড়েন অনেক দিনের। এখনও বেশ কিছু জেলা রয়েছে যেখানে ১০০ টাকার বিদ্যুৎ বিক্রি করে অর্ধেকও আদায় হয় না। সমীক্ষা বলছে, এক শ্রেণির মানুষ যেমন ইচ্ছাকৃত ভাবে বিদ্যুৎ চুরি করেন, তেমন কেউ কেউ সময় মতো সংযোগ না পেয়ে হুকিংয়ের রাস্তায় হাঁটেন। ঠিক এই পরিস্থিতিটাই বদল করতে চাইছে বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশন।

Advertisement

সম্প্রতি ওই সংস্থার সঙ্গে বিদ্যুৎকর্তাদের বৈঠকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, বিদ্যুৎ ব্যবহার ও অপচয় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির সাহায্য নেওয়া হবে। মানুষ যাতে নিয়ম মেনে বিদ্যুৎ সংযোগ নেন,

সময় মতো বিল মেটান বা বিদ্যুতের অপচয় বন্ধ করেন, তার জন্য পথনাটিকা ও লোকগানের আশ্রয় নেওয়া হবে। আর এ সব প্রচারে কাজে লাগানো হতে পারে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে। প্রয়োজনে লিফলেটও বিলি করা হবে। ওই প্রস্তাব বাস্তবায়িত করতে ও মানুষের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তা বুঝতে প্রথম ধাপে কিছু জেলাকে এর জন্য বেছে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

Advertisement

রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ সেন বণ্টন সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সম্প্রতি। কমিশন সূত্রে খবর, সেখানেই বিদ্যুৎকর্তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়, বিশেষ কোনও জটিলতা না থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে

নতুন সংযোগ দিতে হবে। কমিশনের যুক্তি, রাজ্যের হাতে যখন পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ রয়েছে, তখন গ্রাহকেরা ওই পরিষেবা দ্রুত পেতেই পারেন। রবীন্দ্রনাথবাবু বলেন, ‘‘যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকাঠামো রয়েছে, সেখানে আবেদন করার ৭-১০ দিনের মধ্যে সংযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি আমরা। বণ্টন সংস্থাকে এ বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।’’

Advertisement

কমিশন সূত্রের খবর, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করে অনেক সময়ই ওই পরিষেবা পেতে এক থেকে দেড় মাস সময় লেগে যায়। কখনও কখনও সেটা দু’-আড়াই মাসে গিয়েও ঠেকে। ফলে অনেকে সংযোগ না পেয়ে বিদ্যুৎ চুরি করে ঘরের আলো-পাখা জ্বালানোর ব্যবস্থা করেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা এলাকায় এই সমস্যা অনেক দিনের। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ

সংযোগ পেতে বহু সময়ই বেশ সমস্যায় পড়তে হয় গ্রাহকদের। তাই নতুন সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে এ বার সময়সীমা বেঁধে দিতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশন। কোনও গ্রাহক নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করলে ১০ দিনের মধ্যে যাতে লাইন দিয়ে দেওয়া হয়, কমিশন সে বিষয়ে বণ্টন সংস্থাকে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করতে বলেছে।

বণ্টন সংস্থার কর্তারা অবশ্য দাবি করছেন, কোনও জটিলতা না থাকলে তাঁরা এখন আগের থেকে দ্রুত লাইন দিয়ে দিচ্ছেন।

কার্যত বছর তিনেক আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে হুকিং কাটতে গিয়ে মানুষ-পুলিশ সংঘর্ষের কারণও ছিল এটাই। সেখানে পুলিশের গুলিতে দু’জনের মৃত্যুর পরে বিদ্যুৎকর্তারা তদন্তে নেমে জানতে পারেন, ওই এলাকার অধিকাংশ বাড়িতেই চুরির বিদ্যুতে আলো-পাখা চলে। অন্য দিকে মগরাহাটের অনেক গ্রামবাসী বিদ্যুৎকর্তাদের জানান, বহু দিন আগে আবেদন করেও তাঁরা বিদ্যুৎ সংযোগ পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে হুকিং করেছেন। বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এই চাপান-উতোরই বন্ধ করতে চাইছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement