বর্ষাকালে সব্জি চাষে জরুরি সতর্কতা

বৃষ্টিপাত লেগেই রয়েছে। বৃষ্টি না হলেও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া। এই অবস্থায় জমিতে ফসলের বিভিন্ন রকম ক্ষয়ক্ষতি দেখা যাচ্ছে। কোথাও গাছের কাণ্ড ও শিকড় পচে যাচ্ছে, পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে, কোথাও আবার রোগপোকার আক্রমণ।

Advertisement
শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০০:৪০
Share:

বৃষ্টিপাত লেগেই রয়েছে। বৃষ্টি না হলেও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া। এই অবস্থায় জমিতে ফসলের বিভিন্ন রকম ক্ষয়ক্ষতি দেখা যাচ্ছে। কোথাও গাছের কাণ্ড ও শিকড় পচে যাচ্ছে, পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে, কোথাও আবার রোগপোকার আক্রমণ। সালোকসংশ্লেষের হার কমে যাওয়ায় দুর্বল হয়ে পড়ছে গাছ। ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে সতর্কতা জরুরি—

Advertisement

জমি থেকে অতিরিক্ত জল বের করে দিতে হবে। নতুন চাষের ক্ষেত্রে ভাল নিকাশি নালা করার পরে চারা লাগান। প্রয়োজনে নালা ও ভেলি পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে।

এই সময় এমন ধরনের সার (রাসায়নিক) ব্যবহার করা উচিত নয়, যেগুলো খুব সহজে চুঁইয়ে চুঁইয়ে নষ্ট হয়ে যায়। প্রয়োজনে গাছের পাতায় স্প্রে করে উপযুক্ত গৌণ ও মুখ্য খাদ্যোপাদান এবং অনুখাদ্য প্রয়োগ করা যেতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল এন পি কে ২০:২০:২০, ১৯:১৯:১৯, ১৮:১৮:১৮, ক্যালসিয়াম নাইট্রেট, পটাশিয়াম নাইট্রেট, পটাশিয়াম সালফেট, ডিএপি, সোহাগা (বোরণ ১০.৫%) ও জিঙ্ক ইডিটিএ, তুঁতে, অ্যামোনিয়াম মলিবডেট ইত্যাদি।

Advertisement

মূল জমি তৈরির সময় পচা ঝুরঝুরে খামার সার বা জৈব সারের সঙ্গে ট্রাইকোডার্মা ভিরিডি ও সিউডোমোনাস ফ্লুরোসেন্স মিশিয়ে মাটিতে প্রয়োগ করলে মাটিবাহিত রোগের আক্রমণ কমে। তবে, এই সময় কোনও রাসায়নিক সার বা ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না।

পচন বা ক্ষত সৃষ্টিকারী ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হলেও ফুল-ফল ঝরে পড়ে বা নষ্ট হয়ে যায়। ছত্রাকনাশকের মধ্যে কপার অক্সিক্লোরাইড, কার্বেন্ডাজিম, ম্যানকোজেব, ক্যাপ্টান, থায়োফেনেট মিথাইল উল্লেখযোগ্য। ব্যাকটেরিয়া নাশকের মধ্যে স্ট্রেপ্টোসাইক্লিন দেওয়া যেতে পারে।

Advertisement

বিভিন্ন ধরনের পোকা যেমন কাণ্ড ও ফল ছিদ্রকারী পোকা, শোষক পোকা, দয়ে পোকা, শ্যামা পোকা ইত্যাদির আক্রমণ লক্ষ্য করা যায় এই সময়। ডগা, কাণ্ড ও ফল ছিদ্রকারী পোকার জন্য নিম জাতীয় কীটনাশক (অ্যাজাডাইরেক্টিন ১%), তামাক পাতার নির্যাস ব্যবহার করা যেতে পারে। শোষক পোকার আক্রমণ হলে অ্যাসিফেট, অ্যাসিটামিপ্রিড, ফিপ্রোনিল, ইমিডাক্লোপ্রিড, বুফ্রোফ্রেজিন, ডাই-ক্লোরভস, ক্যুইনালফস বা দানাদার কীটনাশক যেমন কার্বোফিউরন ৩জি, কারটাফ হাইড্রোক্লোরাইড ৪জি ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। মাকড়নাশক হিসাবে স্পাইরোমেসিফেন, ফেনপাইরক্সিমেট, সালফার, প্রোপারজাইট ইত্যাদি।

—(সৌজন্যে মালদহ কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement