রাজ্যের দুই ভবন নিয়ে হুঁশিয়ারি দিল্লি পুলিশের

নয়াদিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বঙ্গভবন এবং সার্কুলার রোডে রাজ্য অতিথিশালার নিরাপত্তা বাড়ানোর সুপারিশ করল দিল্লি পুলিশ। সাধারণত দিল্লিতে গেলে রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী ও অন্য মন্ত্রীরা এবং সরকারের শীর্ষ আমলারা এই দুই ভবনেই ওঠেন। সম্প্রতি বঙ্গভবনের সামনেই তৃণমূল সাংসদ রেণুকা সিংহের হার ছিনতাই হয়। রাজ্যের কাছে দশ দফা সুপারিশ করে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ভিআইপি-দের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটোসাঁটো করা দরকার।

Advertisement

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০১৪ ০২:৪৬
Share:

হেইলি রোডে বঙ্গভবন।—নিজস্ব চিত্র

নয়াদিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বঙ্গভবন এবং সার্কুলার রোডে রাজ্য অতিথিশালার নিরাপত্তা বাড়ানোর সুপারিশ করল দিল্লি পুলিশ। সাধারণত দিল্লিতে গেলে রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী ও অন্য মন্ত্রীরা এবং সরকারের শীর্ষ আমলারা এই দুই ভবনেই ওঠেন। সম্প্রতি বঙ্গভবনের সামনেই তৃণমূল সাংসদ রেণুকা সিংহের হার ছিনতাই হয়। রাজ্যের কাছে দশ দফা সুপারিশ করে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ভিআইপি-দের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটোসাঁটো করা দরকার।

Advertisement

রাজধানীর হেইলি রোডে বঙ্গভবন এবং সার্কুলার রোডে রাজ্য অতিথিশালার রক্ষণাবেক্ষণ করে পশ্চিমবঙ্গ পূর্ত দফতর। ওই দুই ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বও রাজ্যের হাতে। গত ১২ জুন দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (নিরাপত্তা) ভৈরোঁ সিংহ গুর্জর রাজ্যের রেসিডেন্ট কমিশনার ভাস্কর খুলবে-র কাছে একটি নোট পাঠিয়ে অবিলম্বে ওই দুই ভবনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত খামতি দূর করার কথা বলেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এই দুই ভবনে যে সব ভিআইপি থাকেন, তাঁদের উপর হামলা হতে পারে বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তথ্য পাঠিয়েছে। তার ভিত্তিতে সব দিক খতিয়ে দেখে আমরা দশ দফা সুপারিশ করছি। জরুরি ভিত্তিতে সেগুলি কার্যকর করা প্রয়োজন।’ এই বার্তা পেয়ে রেসিডেন্ট কমিশনার নবান্নে পুরো বিষয়টি জানান গত ১৪ জুন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার জন্য অর্থও চেয়ে পাঠিয়েছেন তিনি।

কিন্তু বঙ্গভবন এবং সার্কুলার রোডের অতিথিশালায় হামলা চালাতে পারে কারা? এবং কেন? খুলবে জানান, এর উত্তর দিল্লি পুলিশই দিতে পারবে। একই প্রশ্নের জবাবে দিল্লি পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার (নিরাপত্তা) কে সি দ্বিবেদী বলেন, “নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য বলা সম্ভব নয়। তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, আরও দু’একটি রাজ্যের অতিথিশালার নিরাপত্তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।”

Advertisement

সার্কুলার রোডে রাজ্য অতিথিশালা।

দিল্লি পুলিশ বলেছে, ওই দুই ভবনের ভিজিটর্স রেজিস্টার ঠিক মতো দেখাশোনা করা হয় না। ফলে কারা আসছেন-যাচ্ছেন তার নথি রাখার ক্ষেত্রে গাফিলতি রয়েছে। এই রেওয়াজ পাল্টাতে হবে। দুই ভবনের ঢোকা-বেরোনোর দরজায় বালির বস্তার আড়ালে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করতে হবে। তা ছাড়াও দরজায় অস্থায়ী বুলেটপ্রুফ চৌকি রাখতেও বলেছে দিল্লি পুলিশ। ঢোকা-বেরোনোর সব ক’টি দরজার সামনে ‘মেকানাইজড রিট্র্যাক্টেবল বোলাডর্’ (যন্ত্রচালিত ধাতব পাঁচিল) এবং ‘টায়ার কিলার’ (সন্দেহজনক গাড়ির চাকা ফাঁসিয়ে দিতে মাটি ফুঁড়ে ওঠা কাঁটা) রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে গাড়ির তলায় পরীক্ষার জন্য ‘আন্ডার ভেহিকল সার্চ সিস্টেমস’ (ইউভিএসএস) ব্যবস্থা চালুর সুপারিশও করেছে রাজধানীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ।

Advertisement

এ ছাড়াও রয়েছে আরও কিছু সুপারিশ। যেমন, দুই ভবনের পাঁচিলের উপরে প্যাঁচানো তারের খাঁচা বসানো, আশপাশের বহুতল থেকে যাতে বঙ্গভবন ও অতিথিশালার ভিতরে কী হচ্ছে তা দেখা না যায়, তার জন্য বুলেটপ্রুফ আড়াল রাখার বন্দোবস্ত। প্রবেশপথে প্রশিক্ষিত অপারেটর সহ এক্স-রে ব্যাগেজ স্ক্যানার ও ভবনে আসা প্রত্যেক দর্শনার্থীকে দেহ তল্লাশি করে তবেই ভিতরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। শুধু বাইরের নিরাপত্তাই নয়, দুই ভবনের সমস্ত কর্মচারী, বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধি এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের নতুন করে পুলিশ ভেরিফিকেশনের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। নতুন কোনও স্থায়ী বাসিন্দা এলে তাঁরও পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করতে বলা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের ভিভিআইপি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভাগের এক কর্তা জানান, বঙ্গভবন এলাকাটি এমনিতে সুরক্ষিত। কিন্তু নিরাপত্তা সংস্থাগুলি যে ধরনের সতর্কবার্তা পাঠাচ্ছে, তাতে এখনই তৎপর হওয়ার প্রয়োজন। রাজ্য পূর্ত দফতরের এক কর্তা জানান, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দিল্লি পুলিশের প্রস্তাব পাঠানো হবে। সিকিওরিটি ডাইরেক্টরেট যা যা করার পরামর্শ দেবে, সবই মেনে নেওয়া হবে। বঙ্গভবন বা ভিভিআইপি অতিথিশালার নিরাপত্তায় রাজ্য কোনও শৈথিল্য দেখাবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement