CM‑302 anti-ship missiles

মার্কিন নৌবহরের হামলা ঠেকাতে এ বার চিনের দ্বারস্থ ইরান! যুদ্ধজাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে হচ্ছে চুক্তি

গত সপ্তাহে সুইৎজ়ারল্যান্ডের জেনেভায় পরমাণু চুক্তি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে বৈঠক নিষ্ফল হওয়ার পর থেকেই যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইরান। ২০ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়া চালানো হয়েছে ওমান উপসাগর এবং উত্তর ভারত মহাসাগরে!

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:২২
Share:

(বাঁদিক থেকে) আয়াতোল্লা খামেনেই, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিং। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রাশিয়ার পরে এ বার চিন। মার্কিন সেনার সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে এ বার চিনের শরণাপন্ন হল ইরান। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, বেজিং থেকে যুদ্ধজাহাজ বিধ্বংসী সুপারসনিক (শব্দের চেয়ে বেশি গতিবেগ সম্পন্ন) ক্ষেপণাস্ত্র সিএম-৩০২ কিনতে ইতিমধ্যেই চুক্তি চূড়ান্ত করে ফেলেছে আয়াতোল্লা খামেনেই-মাসুদ পেজ়েকশিয়ানের দেশ। দ্রুতই চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সরকার তেহরানকে ওই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ শুরু করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

Advertisement

২৯০ কিলোমিটার পাল্লার ওই চিনা ক্ষেপণাস্ত্র পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন বিমানবাহী মার্কিন রণতরীর বিরুদ্ধে ইরান ফৌজের প্রধান অস্ত্র হতে পারে বলে সামরিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন। প্রসঙ্গত, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সুইৎজ়ারল্যান্ডের জেনেভায় পরমাণু চুক্তি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে বৈঠক নিষ্ফল হওয়ার পর থেকেই যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইরান। ২০ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়া চালানো হয়েছে ওমান উপসাগর এবং উত্তর ভারত মহাসাগরে! সুইৎজ়ারল্যান্ডের জেনেভায় পরমাণু চুক্তি নিয়ে আমেরিকা-ইরান প্রতিনিধিস্তরের ওই বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার হাজির ছিলেন। ইরানের তরফে ছিলেন প্রেসিডেন্ট পেজ়েকশিয়ানের সরকারের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

প্রাথমিক ভাবে আরাঘচি পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বলেছিলেন, ‘‘আমেরিকার সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে ভবিষ্যতের আলোচনার দিশানির্দেশ সংক্রান্ত একটি সাধারণ সমঝোতা হয়েছে।’’ কিন্তু এর পরেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছিল ওয়াশিংটন থেকে। আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভি ভান্স জানান, তাঁদের মূল দাবিগুলি মানতে ব্যর্থ ইরান। অর্থাৎ, ওয়াশিংটনের শর্তে (পরমাণু কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে) রাজি নয় তেহরান। সেই সঙ্গে ইরানকে দু’সপ্তাহের ‘সময়সীমা’ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারের এমন মনোভাবের আঁচ পেয়েই দ্রুত প্রত্যাঘাতের প্রস্তুতি শুরু করে তেহরান।

Advertisement

প্রসঙ্গত, পরমাণু চুক্তি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ঘনাতেই ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে দক্ষিণ চিন সাগর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন! নিমিৎজ-শ্রেণির এই রণতরীর সঙ্গী তিনটি আর্লে বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারও পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে পেন্টাগনের ইরান উপকূলের অদূরে ঘাঁটি গেড়েছে। এর পর দক্ষিণ আমেরিকা উপকূলে মোতায়েন আর এক মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডও পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। জবাবে হরমুজ প্রণালী মার্কিন নৌবহরের অদূরেই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং যুদ্ধ মহড়া চালিয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজ়েকশিয়ানের নৌসেনা। হয়েছে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌযুদ্ধ-মহড়াও। এ বার সরাসরি চিন থেকে যু্দ্ধজাহাজ বিধ্বংসী সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে সক্রিয় হল তারা।

গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভে ইরানে প্রায় ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, ৩০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে খুন করে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনেইয়ের বাহিনী। এই পরিস্থিতি ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। তারই মধ্যে পরমাণু চুক্তি নিয়ে বৈঠক ফলপ্রসূ হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। রাষ্ট্রপুঞ্জ নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র বারে বারেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গত ১৩ জুন রাতে ইরানের রাজধানী তেহরান এবং একাধিক পরমাণুকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল ইজ়রায়েলি যুদ্ধবিমান। ওই অভিযানের পোশাকি নাম ছিল, ‘অপারেশন রাইজ়িং লায়ন’! ঘটনাচক্রে, ইজ়রায়েলি হামলার দিনকয়েক আগে আইএইএ-র ডিরেক্টর জেনারেল রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি জানিয়েছিলেন, পরমাণু বোমা নির্মাণের উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালাচ্ছে ইরান। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল ইরান। ইজ়রায়েলি হামলার ন’দিন পরে ২২ জুন ইরানের তিনটি পরমাণুকেন্দ্র, ফোরডো, নাতান্‌জ় এবং ইসফাহানে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকার বি-২ বোমারু বিমান। ফেলা হয় বাঙ্কার ব্লাস্টার সিরিজের সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা জিবিইউ-৫৭। সেই অভিযানের পোশাকি নাম ছিল ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’। ২৪ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে যুদ্ধবিরতি হলেও ওয়াশিংটনের দাবি মেনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে এখনও পর্যন্ত রাজি হয়নি তেহরান।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement