নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত।
আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশের ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ করেছে সে দেশের নির্বাচন কমিশন। সেই নিয়ে এ বার কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুসারে, তিনি জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে এই নির্দেশ প্রত্যাহার করা না হলে মঙ্গলবার কমিশনের দফতর ঘেরাও করা হবে।
রবিবার বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রের ভিতরে মোবাইল নিয়ে যেতে পারবেন না ভোটারেরা। এমনকি, ভোটকেন্দ্রের ৩৬৫ মিটারের (৪০০ গজ) মধ্যে মোবাইল নিয়ে যাওয়া যাবে না। তবে প্রিসাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ, সেখানে নিযুক্ত আনসারবাহিনীর সদস্যেরা মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন।
এই নিয়েই সোমবার ঢাকার মহম্মদপুরের একটি কর্মসূচিতে সরব হয়েছেন নাহিদ। সেখানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমির বা শীর্ষনেতা শফিকুর রহমান। নাহিদ কমিশনকে নিশানা করে বলেন, ‘‘কার পরিকল্পনা অনুসারে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট হচ্ছে। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, আজকে সন্ধ্যার মধ্যে এই বিধিবিধান পরিবর্তন করতে হবে। তা না হলে আগামীকাল নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করা হবে।’’ তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, ‘‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যদি কোনও পক্ষপাতিত্ব করার পরিকল্পনা থাকে, ফ্যাসিস্ট আমলে যে পরিণতি হয়েছিল, তার থেকেও করুণ পরিণত হবে কমিশনের।’’
কমিশনের এই সিদ্ধান্তে গোটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতা, কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, এর ফলে অনেক ভোটার ভোট দিতে যেতে চাইবেন না। সাংবাদিকদের কাজও ব্যহত হতে পারে। বিপাকে পড়তে পারেন রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা, কারণ, নেতা, প্রার্থীদের সময়মতো খবর দিতে পারবেন না তাঁরা।
সমালোচনার মুখে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছুদ বিবিসি বাংলাকে বিধিনিষেধ বদলানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, গোপন কক্ষ ছাড়া সব জায়গায় সাংবাদিকেরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে এই বিষয়ে স্পষ্ট করে তিনি কিছু জানাননি। কেন এই বিধি আনা হল, তা জারি থাকলে সাংবাদিক বা কমিশনের কর্মীরা কী ভাবে কাজ করবেন, তা-ও জানাননি তিনি।