আমেরিকাকে হুমকি চিনের। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
হরমুজ় অবরুদ্ধ করতেই আমেরিকাকে হুমকি দিল চিন। কড়া বার্তা দিল, ইরানের সঙ্গে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কেউ যদি নাক গলানোর চেষ্টা করে, তা হলে পরিণাম ভাল হবে না। চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাডমিরাল ডোং জুন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘ইরানের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য এবং জ্বালানি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে। আশা করি, আমাদের এই পারস্পরিক সম্পর্কে তৃতীয় কেউ যেন হস্তক্ষেপ করবে না। হরমুজ় প্রণালী চিনের জন্য খোলা থাকবে।’’
প্রসঙ্গত, সোমবার সন্ধ্যা থেকেই হরমুজ় অবরুদ্ধ করার কাজ শুরু করে দিয়েছে আমেরিকা। তারা জানিয়েছে, ইরানে আগত বা ইরান থেকে যে সব জাহাজ বাইরে যাবে, সব আটকানো হবে। আমেরিকার এই ঘোষণার পরই সুর চড়াল চিন। কারণ, হরমুজ় প্রণালী চিনের জন্যও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ় দিয়ে চিনের ৪০ শতাংশ অশোধিত তেল এবং ৩০ শতাংশ এলএনজি যায় ইরান থেকে। তাদের দেশে এই জ্বালানির সরবরাহ যাতে মসৃণ থাকে এবং পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাত যাতে দ্রুত থেমে যায়, তার পক্ষেই সওয়াল করে যাচ্ছে বেজিং।
অনেকেরই ধারণা, হরমুজ় অবরুদ্ধ করে এক দিকে ইরানকে ‘শিক্ষা’ দিতে চাইলেও পরোক্ষে চিনকেও একটা সবক শেখানোর চেষ্টা করছে আমেরিকা। তবে চিন বার বারই যুদ্ধবিরতির পক্ষে সওয়াল করছে। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও সোমবার আমেরিকা-ইরানের এই যুদ্ধবিরতির প্রতি সমর্থন জানানো হয়। কিন্তু আমেরিকা হরমুজ় অবরুদ্ধ করার ঘোষণার পরই চিন প্রতিক্রিয়া দেয়, ইরান এবং চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যদি কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তা হলে তার পরিণাম ভুগতে হবে। প্রসঙ্গত, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে প্রথম থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছে চিন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের হত্যা নিয়েও সরব হয়েছিল তারা। তার পরই আমেরিকা হুঁশিয়ারি দেয়, চিন যদি ইরানের পাশে দাঁড়ায় এবং এমন কিছু পদক্ষেপ করে যা আমেরিকার বিরুদ্ধে যায়, তা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারিও দেন, বেজিং যদি তেহরানকে কোনও রকম অস্ত্র সরবরাহ করে, তা হলে তাদের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।