US-Iran Conflict

চিনকে তেল বিক্রি কমানোর জন্য ইরানের উপর ‘সর্বশক্তি দিয়ে চাপ তৈরি করা হবে’! সহমত ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু

বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে, ইরানে উৎপাদিত তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কেনে চিন। তেহরানের উপর আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে আমেরিকা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৬
Share:

(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

শুধু রাশিয়া নয়, ইরানের তেলের বাজারের দিকেও ‘নজর’ রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের! অতীতে তাঁকে বার বার ইরানের থেকে তেল কেনা কমানো বা বন্ধের জন্য অন্য দেশগুলিকে ‘চাপ’ দিতে দেখা গিয়েছে। তবে এ বার ইরানের তেল রফতানিতে রাশ টানতে ‘সর্বশক্তি’ প্রয়োগ করবে আমেরিকা! এমনই দাবি ‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদনে। যদিও সব দেশের জন্য নয়, চিনে তেল রফতানি কমানোর জন্য ইরানকে ‘চাপ’ দেওয়া হবে, দাবি ওই রিপোর্টে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে বৈঠকে এই বিষয়ে সহমত পোষণ করেছেন ট্রাম্প এবং ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

Advertisement

ওই বৈঠক সম্পর্কে অবগত দুই মার্কিন কর্তাকে উদ্ধৃত করে ‘অ্যাক্সিওস’ জানিয়েছে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুই ছিল ইরানকে চিনে তেল রফতানি কমানোর উপর চাপ দেওয়ার বিষয়। ওই কর্তাদের কথায়, ‘‘আমরা সহমত হয়েছি যে, ইরানের উপর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করা হবে। বিশেষত, চিনে তেল রফতানির বিষয়ে।’’

বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে, সমুদ্রপথে ইরানে উৎপাদিত তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কেনে চিন। তেহরানের উপর আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে আমেরিকা। নেপথ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। আমেরিকা চায় না, তেল বিক্রির টাকা ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাক। সেই কারণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে মার্কিন প্রশাসন। ফলে ইরানের তেল ক্রেতা খুব কম। তথ্য অনুসারে, গত বছর প্রতি দিন গড়ে ১৩ লক্ষ ৮০ হাজার ব্যারেল তেল ইরান থেকে কিনেছে চিন।

Advertisement

ইরানের উপর আমেরিকার একতরফা নিষেধাজ্ঞা জারির বিরোধিতা করেছিল চিন। তারা স্পষ্ট জানিয়েছিল, তেহরানের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য লেনদেন বৈধ। অনেকের মতে, চিনে তেল রফতানিতে চাপ বৃদ্ধি করে তেহরানের নীতি পরিবর্তন ঘটাতে পারে। কিংবা আমেরিকার সঙ্গে পারমাণবিক-দ্বন্দ্ব মেটানোর দিকে অগ্রসর হতে পারে ইরান।

ইরানের পারমাণিক প্রকল্প নিয়ে সুর চড়িয়ে রেখেছে আমেরিকা। তারা চায়, তেহরান তাদের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে সই করুক। কিন্তু ইরানের বক্তব্য, তারা নিজেদের শর্তে চুক্তি সই করবে। মাথা নোয়াবে না আমেরিকার কাছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানকে পরমাণু শক্তিধর হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। ইরানের হাতে পরমাণু বোমা এলে তা আঞ্চলিক এবং সমগ্র বিশ্বের শান্তি, নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করবে। তেহরানের পাল্টা দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিতে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে ওয়াশিংটন। সেই দ্বন্দ্বের মধ্যেই ইরানের আশপাশে পশ্চিম এশিয়ায় সেনা মোতায়েন করে চলেছে আমেরিকা। পারস্য উপসাগরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন। ট্রাম্প প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, দ্বিতীয় রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ডকে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে।

ইরান জানিয়েছে, আমেরিকা যদি সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে সেটাকে যুদ্ধ হিসাবেই দেখবে তারা। তার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। এই টানাপড়েনের মধ্যে ওমানে ইরান এবং আমেরিকা একদফা আলোচনা সেরেছে। আগামী সপ্তাহে আবার আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement