US Iran Conflict

খামেনেইয়ের সঙ্গে মুখোমুখি বসে কথা বলতে ইচ্ছুক ট্রাম্প! পরমাণু-দ্বন্দ্বে ইতি টানা যাবে? অবস্থান স্পষ্ট করলেন রুবিয়ো

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরানের আশপাশে পশ্চিম এশিয়ায় সেনা মোতায়েন করে চলেছে আমেরিকা। তবে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক পদ্ধতিতেই সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী ওয়াশিংটন, দাবি রুবিয়োর।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৮
Share:

(বাঁ দিকে) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইরানের সঙ্গে সমস্যার সমাধান করতে প্রয়োজনে সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সঙ্গেও দেখা করবেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো। তিনি জানিয়েছেন, খামেনেইয়ের সঙ্গে মুখোমুখি বসে কথা বলতে ইচ্ছুক ট্রাম্প। সুযোগ পেলেই বৈঠক করবেন। তবে ইরান প্রসঙ্গে আমেরিকার অবস্থানও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রুবিয়ো। এখনই ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা নিয়ে সুর নরম করছে না ওয়াশিংটন।

Advertisement

রুবিয়ো জানিয়েছেন, কখনওই ইরানকে পরমাণু শক্তিধর হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে মার্কিন অবস্থান প্রথম থেকেই স্পষ্ট। ইরানের হাতে পরমাণু বোমা এলে তা আঞ্চলিক এবং সমগ্র বিশ্বের শান্তি, নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করবে। এই ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। তবে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক পদ্ধতিতেই সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। রুবিয়োর কথায়, ‘‘ইরানকে পরমাণু অস্ত্র পেতে দেওয়া হবে না কখনও। এটা স্পষ্ট। তবে কূটনীতির মাধ্যমেই সমাধানে আমরা আগ্রহী।’’ তাহলে কেন পশ্চিম এশিয়ায় সেনা মোতায়েন করেছে আমেরিকা? রুবিয়ো জানান, অতীতে আমেরিকার স্বার্থের উপর একাধিক বার আঘাত করেছে ইরান। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই সেনার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরানের আশপাশে পশ্চিম এশিয়ায় সেনা মোতায়েন করে চলেছে আমেরিকা। পারস্য উপসাগরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন। ট্রাম্প প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, দ্বিতীয় রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ডকে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানে দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে আমেরিকার বাহিনী। ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই আক্রমণ করা হবে। এই পরিস্থিতিতে রুবিয়ো জানালেন, পশ্চিম এশিয়ায় সেনা মোতায়েনের উদ্দেশ্য আদৌ সংঘাত বৃদ্ধি নয়। বরং আমেরিকার সেনা এবং কাঠামোর উপর ইরানের সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধ করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। কূটনীতিই তাঁর প্রশাসনের অগ্রাধিকার।

Advertisement

মার্কিন বিদেশ সচিবের কথায়, ‘‘আমি এমন একজন প্রেসিডেন্টের জন্য কাজ করি, যিনি সকলের সঙ্গে দেখা করতে প্রস্তুত। আমাদের প্রেসিডেন্ট সবসময় চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চান।’’ সুযোগ এলে খামেনেইয়ের সঙ্গেও ট্রাম্প দেখা করবেন, জানিয়েছেন রুবিয়ো। তবে ট্রাম্প খামেনেইয়ের মুখোমুখি বসলেও ইরানের পরমাণু পরিকল্পনা নিয়ে আমেরিকার অবস্থান বদলাবে না, স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। যদি ভবিষ্যতে তেমন কোনও বৈঠক হয়, তা হবে সংঘাত থামানোর স্বার্থে। ইরানের দাবিদাওয়া মেনে নিয়ে তাদের উপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেবে না আমেরিকা।

ইরান এবং আমেরিকার আধিকারিকদের মধ্যে ওমানে এক দফা আলোচনা হয়েছে। সুইৎজ়ারল্যান্ড জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে ওমানে ফের এই দুই দেশের আধিকারিকেরা বৈঠকে বসতে পারেন।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement