কুখ্যাত মাদক সম্রাটের মৃত্যুর পর পথে মেক্সিকোর বাহিনী। ছবি: এএফপি।
মেক্সিকোর কুখ্যাত ‘মাদক সম্রাট’ নেমেসিয়ো ওসেগুয়েরা ওরফে এল মেঞ্চো নিহত হয়েছেন। রবিবার সে দেশের সেনাবাহিনীর একটি গোপন অভিযানে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। আমেরিকার সামরিক হস্তক্ষেপেই মেক্সিকোর বাহিনী নেমেসিয়োর বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছিল। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন মেক্সিকো কর্তৃপক্ষও। তবে মেঞ্চোর মৃত্যুর খবরে দেশ জুড়ে অশান্তি শুরু হয়েছে। আগুন জ্বলছে মেক্সিকোর একাধিক প্রদেশে।
গত জানুয়ারি মাসেই ভেনেজ়ুয়ালায় সরাসরি সামরিক অভিযান চালিয়েছিল আমেরিকার বাহিনী। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সে দেশে ঢুকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। তাঁর বিরুদ্ধে দেশে সক্রিয় মাদক পাচারচক্র চালানো এবং আমেরিকায় মাদক পাচারের অভিযোগ এনেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এখন তিনি মার্কিন জেলে বন্দি। মাদুরো-অভিযানের সময়েই ট্রাম্প মেক্সিকোকে বার্তা দিয়েছিলেন। মাদক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সে দেশের সরকার অবিলম্বে পদক্ষেপ না-করলে মার্কিন বাহিনী হস্তক্ষেপ করতে পারে, ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন। সেটাই বাস্তবায়িত হল রবিবারের অভিযানে।
মাদুরোর গ্রেফতারির পর থেকেই চাপে ছিলেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম। সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মেঞ্চোর হত্যাকাণ্ডে মার্কিন বাহিনীর নেতৃত্বাধীন একটি টাস্ক ফোর্সের বিশেষ ভূমিকা ছিল। মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা আমেরিকার কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিল এই অভিযানের আগে। তবে মেঞ্চোর মৃত্যুর পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশে যে হিংসা ও অশান্তির আবহ তৈরি হয়েছে, তা সামলানোই এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
৬০ বছর বয়সি মেঞ্চো একসময় পুলিশ আধিকারিক ছিলেন। পরে মাদকপাচারের দুনিয়ায় পা রাখেন। বিশ্বের সবচেয়ে কুখ্যাত (মোস্ট ওয়ান্টেড) মাদক পাচারকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। শুধু মাদকপাচার নয়, খুন, চাঁদাবাজি, মানবপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে। আমেরিকা-সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দীর্ঘ দিন ধরে তাঁকে খুঁজছিল। মেক্সিকোর অপরাধ জগতে তাঁর সীমাহীন প্রতিপত্তি ছিল। প্রভাব ছিল রাজনীতিতেও। রবিবার সেনাবাহিনীর অভিযানে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে হেফাজতেই তাঁর মৃত্যু হয়। বিকেলে (স্থানীয় সময়) ন্যাশনাল গার্ডের কড়া প্রহরায় মেঞ্চোর মরদেহ নিয়ে আসা হয় মেক্সিকো সিটিতে। কিন্তু অশান্তি ঠেকানো যায়নি। মেঞ্চোর অনুগামীরা দেশের নানা প্রান্তে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক গাড়ি এবং দোকানে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর খবর নেই।