ইলন মাস্কের সংস্থা স্টারলিঙ্ক। ফাইল চিত্র।
ধনকুবের ইলন মাস্কের সংস্থা স্টারলিঙ্কের জন্য পাকিস্তানের দরজা কি আদৌ খুলবে? কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবার সুবিধা এখনই পাচ্ছেন না সে দেশের বাসিন্দারা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, তথ্য সুরক্ষার উদ্বেগের কারণে স্টারলিঙ্কের লাইসেন্সের অনুমোদন দিতে গরিমসি করছে শাহবাজ় শরিফের সরকার।
সংবাদসংস্থা পিটিআই স্থানীয় বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন উল্লেখ করে স্টারলিঙ্ক সংক্রান্ত বিষয়টি জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাদের উদ্ধৃত করে পিটিআই জানিয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগ এবং অমীমাংসিত নিরাপত্তার কারণে স্টারলিঙ্কের অনুমোদন প্রক্রিয়া ধীর গতিতে চলছে।
সূত্র উদ্ধৃত করে ‘এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’ জানিয়েছে, স্টারলিঙ্ক পাকিস্তানের পর্যবেক্ষণ এবং সুরক্ষা এড়িয়ে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য প্রেরণ করতে পারে। এক প্রশাসনিক কর্তার কথায়, ‘‘পাকিস্তানের গ্রাহকদের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের কাছে অগ্রাধিকার। সুরক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় যাচাইকরণ সম্পন্ন না-হওয়া পর্যন্ত আমরা স্টারলিঙ্ককে অনুমতি দিতে পারি না।’’
প্রশ্ন উঠছে শুধুই কি নিরাপত্তার কারণে এ হেন সিদ্ধান্ত পাক সরকারের? না কি নেপথ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প? কর্তাদের একাংশের মতে, ট্রাম্প-মাস্কের সম্পর্ক এখন খুব একটা ভাল নয়। প্রকাশ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি না-করলেও দু’জনের সম্পর্কের বরফ গলেনি। সেই বিরোধের কারণেই পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ এখনই স্টারলিঙ্ককে ছাড়পত্র দিতে রাজি নন। অনেকের মতে, ট্রাম্পকে চটাতে চাইছে না শরিফের সরকার।
গত বছর জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে দ্বিতীয় বার শপথ নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ মজবুত করতে উঠে পড়ে লাগে শরিফের সরকার। ট্রাম্পের নানা দাবিকে সমর্থন করে আসছে তারা। গত বছরের মে মাসে ভারত-পাক সংঘর্ষ বিরতি, তাঁর হস্তক্ষেপেই সম্ভব হয়েছে বলে বার বার দাবি করেন ট্রাম্প। যদিও ভারত প্রথম থেকেই সেই দাবি মানতে না-চাইলেও পাকিস্তান পূর্ণ সমর্থন করে। এখানেই শেষ নয়, ট্রাম্পের দাবিতে সায় দিয়ে শাহবাজ় সরকার এ-ও জানায়, ট্রাম্পের নোবেল পাওয়া উচিত। ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’-কেও সমর্থন জানায় পাক সরকার। সেই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে এড়িয়ে মাস্কের জন্য দরজা খুলে দেবে কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে পাকিস্তান।
যদিও সরকারি মহল সূত্রে দাবি, ট্রাম্প বড় কারণ নয়, আসল কারণ নিরাপত্তাই। ওই সূত্রের দাবি, ‘‘স্টারলিঙ্কের আবেদন পরীক্ষা করার সময় দেখা গিয়েছে কিছু সংবেদশীল তথ্য সংগ্রহের বিষয় আসছে। সরকার বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছে।
বর্তমানে পাকিস্তানের ইন্টারনেট ডেটার উপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, স্টারলিঙ্ক পাকিস্তানের বাজারে এলে ওই কোম্পানি আধিপত্য হারাতে পারে। শুধু তা-ই নয়, স্টারলিঙ্কের সাহায্যে বালোচিস্তানের মতো এলাকায় সহজেই ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে যাবে, যা সরকার চাইবে না।
অন্য দিকে, শীঘ্রই পাকিস্তানের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে ঢুকে পড়বে স্টারলিঙ্ক। ইতিমধ্যে সারা বিশ্বে ১০০টিরও বেশি দেশে স্টারলিঙ্কের পরিষেবা চালু রয়েছে। স্যাট-কম পরিষেবার প্রাথমিক খরচ এমনিতেই টেলিকমের তুলনায় অনেক বেশি। তা ছাড়া, এক এক জায়গায় পরিষেবা বাবদ খরচ এক এক রকম। ভারতের দুই প্রতিবেশী দেশ ভুটান এবং বাংলাদেশে স্টারলিঙ্ক রয়েছে।