US-Venezuela Conflict

‘বিশ্বের প্রচলিত ব্যবস্থা ধ্বংস করছে আমেরিকা’, ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করলেন জার্মানির প্রেসিডেন্ট ওয়াল্টার

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রভাবশালী দেশের প্রেসিডেন্ট ওয়াল্টার ভেনেজ়ুয়েলা-কাণ্ডের উদাহরণ তুলে বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক বিধিব্যবস্থা ভেঙে পড়ে যেন লুটেরাদের আস্তানায় পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।’’

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:০০
Share:

(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফ্রাঙ্ক- ওয়াল্টার স্টাইনমায়ার (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন আমেরিকা বিশ্বের প্রচলিত ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলল জার্মানি। সে দেশের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টাইনমায়ার শুক্রবার ভেনেজ়ুয়েলায় মার্কিন সেনার অভিযানেরও কড়া ভাষায় নিন্দা করেছেন।

Advertisement

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রভাবশালী দেশের প্রেসিডেন্ট ওয়াল্টার ভেনেজ়ুয়েলা-কাণ্ডের উদাহরণ তুলে বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক বিধিব্যবস্থা ভেঙে পড়ে যেন লুটেরাদের আস্তানায় পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। না হলে নীতিহীন ক্ষমতাশালীরা তাঁদের যা মনে হবে সেটিকেই দখল করে নেবেন।’’ আমেরিকার কারণেই বিশ্বে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সঙ্কুচিত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে ওয়াল্টারের মন্তব্য, ‘‘এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রাসী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে আমাদের।’’

ঘটনাচক্রে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মার্কিন সেনার সর্বাধিনায়ক হিসেবে তাঁর ক্ষমতা কেবলমাত্র নৈতিকতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অন্য দেশে সেনা অভিযানের পদক্ষেপ করার ক্ষেত্রে কোনও আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করবেন না তিনি। ইরানের পরমাণুকেন্দ্রে বিমানহানা এবং সেনা অভিযান চালিয়ে ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর ক্ষমতার কোনও সীমা আছে কি না জানতে চাওয়া হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “হ্যাঁ, একটি জিনিস আছে। আমার নিজস্ব নীতি। আমার নিজস্ব মন। এটিই এক মাত্র জিনিস যা আমাকে থামাতে পারে। আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই।’’ তাঁর ওই মন্তব্যের পরেই বার্লিন থেকে এল বিরোধিতার সুর।

Advertisement

ওই সাক্ষাৎকারে ‘তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে’ ইউরোপের দেশ ডেনমার্ক নিয়ন্ত্রিত গ্রিনল্যান্ড দখলেরও বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা, ‘‘গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার অংশ হতে হতেই হবে। মালিকানার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’’ কিন্তু গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অভিযানের প্রয়োজন আছে কি? প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি মনে করি সাফল্যের জন্য মানসিক ভাবে এটিই প্রয়োজন। আমি মনে করি মালিকানা আপনাকে এমন কিছু দেয়, যা অন্য কিছু দিতে পারে না।’’ মালিকানা কেবল একটি নথি সই করে পাওয়া যায় না জানিয়ে কার্যত গ্রিনল্যান্ডে সেনা অভিযানের বার্তা দেন ট্রাম্প। তাঁর কাছে গ্রিনল্যান্ড দখল না কি ইউরোপের দেশগুলিকে নিয়ে গঠিত সামরিক জোট নেটোকে অক্ষত রাখা, কোনটি অগ্রাধিকার তা জানতে চাওয়া হলে অবশ্য সরাসরি কোনও উত্তর দেননি তিনি। তবে সেই সঙ্গেই তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা পাশে না থাকলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চাপ বাড়াবেন পশ্চিম ইউরোপের উপর। শুক্রবার মস্কো এবং ওয়াশিংটনের আগ্রাসনের এক সারিতে টেনে এনে ওয়াল্টারের মন্তব্য, ‘‘রাশিয়ার ক্রাইমিয়া দখল এবং ইউক্রেনে আগ্রাসন ইতিহাসের একটি নির্ণায়ক মোড়। আমেরিকার সাম্প্রতিক আচরণ সেই ধারাবাহিকতায় আর একটি বড় ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিতবাহী।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement