লোহিত এবং এডেন উপসাগরের সংযোগকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালী। — ফাইল চিত্র।
হরমুজ় প্রণালী নিয়ে জটিলতার মধ্যে আরও এক প্রণালী বন্ধের আশঙ্কা তৈরি হল। এ বার ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথির নজরে বাব আল-মান্দেব প্রণালী। ওই গোষ্ঠীর এক ঊর্ধ্বতন কর্তা সতর্ক করেছেন, হুথি বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দিতে পদক্ষেপ করতে পারে।
ইরান এবং আমেরিকার সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে হুথিরা। বার বার আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা। এ বার বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধের হুমকি দিল। সানায় অবস্থিত হুথি প্রশাসনের উপ বিদেশমন্ত্রী হুসেইন আল-আজ্জিকে উদ্ধৃত করে আল জাজ়িরা জানিয়েছে, আমেরিকা বা ইজ়রায়েল যদি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসতে না-চায়, তবে বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে হুথি।
আল-আজ্জির দাবি, অবিলম্বে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর সহযোগীদের এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে, যা শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে। একই সঙ্গে তাঁদের জনগণ এবং দেশের অধিকারের প্রতি প্রয়োজনীয় সম্মান প্রদর্শন করতে হবে তাঁদের, দাবি হুথি প্রশাসনের উপ বিদেশমন্ত্রীর। তাঁর হুঁশিয়ারি সানা যদি বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তবে তা আবার খোলার ক্ষেত্রে কোনও শক্তি কাজ করবে না।
লোহিত এবং এডেন উপসাগরের সংযোগকারী বাব আল-মান্দেবের দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ যথাক্রমে ১৩০ এবং ৪০ কিলোমিটার। তবে কোনও কোনও জায়গায় সংশ্লিষ্ট প্রণালীটি মাত্র ৩০-৩৩ কিলোমিটার চওড়া। এই প্রণালীর উপর ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণই বেশি। বর্তমানে দিনে প্রায় ৮৮ লক্ষ ব্যারেল খনিজ তেল পরিবহণ হয় বাব আল-মান্দেবের করিডর দিয়ে। পাশাপাশি, ওই রুটে চলাচল করে বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০-১২ শতাংশ পণ্য। এ-হেন গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ হলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তরল সোনার দর অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়বে। এতে ব্যাহত হবে ভারত-ইউরোপের আমদানি-রফতানি।
হরমুজ় নিয়ে টানাপড়েন অব্যাহত। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পর পরই ইরান হরমুজ় ‘অবরোধ’ করে। তারা স্পষ্ট জানায়, কোনও জাহাজ ওই জলপথ পার করতে দেবে না। কেউ পার করার চেষ্টা করলে, সেখানে হামলা চালানো হবে। তবে পরে ভারত-সহ বেশ কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে হরমুজ়ে ছাড় দেয় ইরান। তার পর থেকে কয়েকটি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ় পেরিয়ে ভারতে এসেছে। তবে ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকার শান্তিবৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে হরমুজ়ে। তার মধ্যে যদি বাব আল-মান্দেব প্রণালীও বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সঙ্কট আরও প্রকট হতে পারে।