US Iran War

অন্ধকারে নিশ্চুপে ইরানে প্রবেশ, জখম পাইলটকে উদ্ধার, বেরিয়ে আসার ঠিক আগে শত্রুসেনা টের পায়! রুদ্ধশ্বাস মার্কিন অভিযান

বিশেষ অভিযানের জন্য প্রশিক্ষিত কয়েকশো সেনাকে এই উদ্ধারকাজে নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁরা ইরানে প্রবেশ করেন গভীর রাতে। জখম পাইলটের অবস্থান চিহ্নিত করেন এবং তাঁকে উদ্ধার করেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০২
Share:

রাতের অন্ধকারে পাইলটকে উদ্ধার করেছে মার্কিন বায়ুসেনা। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

ইরানে ঢুকে সেখান থেকে জখম পাইলটকে উদ্ধার করে এনেছে আমেরিকার সেনাবাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে সগর্বে সে কথা ঘোষণা করেছেন। দাবি করেছেন, এই অভিযান আরও এক বার মার্কিন বায়ুসেনার শক্তির পরিচয় দিল। প্রমাণ করে দিল, সামরিক শক্তিতে আমেরিকাই বিশ্বসেরা! কিন্তু কী ভাবে এই অভিযান সফল হল? নিখোঁজ এই মার্কিন পাইলটের খোঁজে ইরানেও তল্লাশি শুরু হয়েছিল। সে দেশের সরকার পাইলটকে জীবন্ত ধরে দেওয়ার জন্য পুরস্কার পর্যন্ত ঘোষণা করেছিল। তা সত্ত্বেও কী ভাবে তেহরানের নাকের ডগা দিয়ে পাইলটকে উদ্ধার করে বেরিয়ে গেল মার্কিন সেনা?

Advertisement

আল জাজ়িরার একটি রিপোর্টে দাবি, বিশেষ অভিযানের জন্য প্রশিক্ষিত কয়েকশো সেনাকে এই উদ্ধারকাজে নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁরা ইরানে প্রবেশ করেন গভীর রাতে। জখম পাইলটের অবস্থান চিহ্নিত করেন এবং তাঁকে উদ্ধার করেন। রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারেই গোটা অভিযান সম্পন্ন করা হয়েছিল। একে ‘নাটকীয় অভিযান’ বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে রিপোর্টে।

ভোর হওয়ার আগেই জখম পাইলটকে নিয়ে ইরান ছাড়ে মার্কিন বাহিনী। সূত্রের দাবি, আলো ফোটার আগেই ইরানের ভূখণ্ডের সীমা তারা অতিক্রম করে ফেলেছিল। তবে সব কিছু একেবারে পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটেনি। সামান্য ত্রুটি থেকে গিয়েছিল। যে কারণে পাইলটকে উদ্ধার করে ইরান থেকে বেরোনোর ঠিক আগের মুহূর্তে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে যায় শত্রুপক্ষ। রাতের অন্ধকারেই জোরদার গুলির লড়াই শুরু হয়। তবে তার মাঝেই পাইলটকে নিয়ে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে আমেরিকার বায়ুসেনা। ট্রাম্পের দাবি, পাইল়ট জখম হলেও নিরাপদে রয়েছেন। দ্রুত তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।

Advertisement

ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, শনিবার ইরানে আটকে পড়া আরও এক পাইলটকে উদ্ধার করেছে মার্কিন বাহিনী। তবে দ্বিতীয় অভিযানের কথা মাথায় রেখে আগেভাগে সে কথা প্রচার করা হয়নি। দ্বিতীয় পাইলটকে উদ্ধার করার পরেই দু’টি অভিযানের সাফল্য সমাজমাধ্যমে বর্ণনা করেন ট্রাম্প। জানিয়েছেন, তাঁর নির্দেশেই এই উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। দু’টি অভিযানের ক্ষেত্রেই কোনও আমেরিকানের আঘাত লাগেনি বা কেউ মারা যাননি। ট্রাম্পের দাবি, এই উদ্ধার অভিযানে অনেকগুলি যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিলেন তিনি। প্রত্যেকটিতে প্রাণঘাতী অস্ত্রশস্ত্র মজুত ছিল।

আমেরিকার এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানটিকে শুক্রবার গুলি করে নামিয়েছিল ইরানের সেনা। তাতে দু’জন পাইলট ছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দাবি, ভেঙে পড়ার আগের মুহূর্তে বিমান থেকে দু’জনই লাফিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। এক জনকে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে নেওয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয় পাইলটের খোঁজ পাচ্ছিল না আমেরিকার সেনা। ইতিমধ্যে পাইলট নিখোঁজের খবর চাউর হয়ে যায় সর্বত্র। ইরানও তন্ন তন্ন করে তাঁর খোঁজ শুরু করে। শেষ পর্যন্ত পাইলটকে খোঁজার এই লড়াইয়ে আমেরিকাই সফল হল। তবে উদ্ধারকৃত পাইলটের নাম বা পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement