Human Rights Watch

লেবাননে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাসের গোলা ছুড়েছে ইজ়রায়েল! অভিযোগ মার্কিন মানবাধিকার সংস্থার

অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে সাদা ফসফরাস ধোঁয়ার আস্তরণ তৈরি করে। পাশাপাশি এটিকে ‘অস্ত্র’ হিসাবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ব্যবহার করে কোনও ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এমনকি মানুষের চামড়া এবং মাংসও পুড়িয়ে দিতে পারে এই রাসায়নিক।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ১৪:৩০
Share:

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি। ছবি: রয়টার্স।

লেবাননের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাস ছুড়েছে ইজ়রায়েল! এমনটাই অভিযোগ তুলল আমেরিকার মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইট্‌স ওয়াচ। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির চতুর্থ দিনে (৩ মার্চ) এই হামলা চলেছিল বলে দাবি করছে ওই মানবাধিকার সংস্থা।

Advertisement

ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লা দীর্ঘ দিন ধরেই সক্রিয় দক্ষিণ লেবাননে। সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হিজ়বুল্লার সঙ্গে ফের সংঘর্ষে জড়িয়েছে ইজ়রায়েল। দক্ষিণ লেবাননে পর পর হামলা চালিয়েছে তেল আভিভ। এই উত্তেজনার মাঝেই দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমো শহরের এক জনবসতিপূর্ণ এলাকাকে লক্ষ করে ইজ়রায়েল সাদা ফসফরাস ছুড়েছিল বলে অভিযোগ।

এই রাসায়নিকটি অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে ধোঁয়ার আস্তরণ তৈরি করে। পাশাপাশি এটিকে ‘অস্ত্র’ হিসাবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ব্যবহার করে কোনও ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এমনকি মানুষের চামড়া এবং মাংসও পুড়িয়ে দিতে পারে এই রাসায়নিক। যাঁরা বেঁচে যান, তাঁদেরও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মানবাধিকার কর্মীদের বক্তব্য, কোনও জনবহুল এলাকায় এই ভাবে সাদা ফসফরাস ছোড়া আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ। কিন্তু ইজ়রায়েল সেই কাজটিই করেছে বলে অভিযোগ হিউম্যান রাইট্‌স ওয়াচ-এর।

Advertisement

নিউ ইয়র্কের ওই মানবাধিকার গোষ্ঠী জানাচ্ছে, তাদের হাতে এমন অন্তত সাতটি ছবি এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, সেই ছবিগুলি থেকেই স্পষ্ট, ইজ়রায়েল সাদা ফসফরাস প্রয়োগ করেছিল। তবে তা থেকে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নির্দিষ্ট ভাবে কিছু জানায়নি তারা। বিবৃতিতে ‘হিউম্যান রাইট্‌স ওয়াচ’ লিখেছে, “জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইজ়রায়েলি বাহিনীর সাদা ফসফরাসের অবৈধ প্রয়োগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এর পরিণতি ভয়ানক।”

মার্কিন মানবাধিকার সংগঠনের এই রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ইজ়রায়েলি বাহিনীর কোনও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে অতীতে বিভিন্ন সময়ে ইজ়রায়েল দাবি করেছে, তারা সাদা ফসফরাস ব্যবহার করে। কিন্তু সাধারণ নাগরিকদের উপরে তা প্রয়োগ করা হয় না। যদিও হিউম্যান রাইট্‌স ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলির অভিযোগ, দক্ষিণ লেবাননে অতীতে হিজবুল্লার বিরুদ্ধে হামলার সময়ে বহু বার এই সাদা ফসফরাস ছুড়েছে ইজ়রায়েল। এমন এমন জায়গায় তা ছোড়া হয়েছে, যেখানে সাধারণ নাগরিকেরাও উপস্থিত ছিলেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement