International News

ব্যাপক ধস করাচি শেয়ার বাজারে, অর্থনীতির চাপেই কি সুর নরম ইমরানের?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত ও পাকিস্তানের শেয়ার বাজারের পরিসংখ্যান ও অর্থনীতির সার্বিক ছবি সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ভারতীয় বায়ুসেনা বুধবার একটি পাক এফ-১৬ ষুদ্ধবিমানকে গুলি করে মাটিতে নামানোর পর বড় রকমের ধস নামে করাচির শেয়ার বাজারে। যার নাম- ‘কেএসই১০০’। এ দিন যার সূচক পড়ে যায় এক লাফে প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১৯:০৭
Share:

গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ।

দেশের পিছিয়ে পড়া অর্থনীতির চাপেই কি সুর নরম করে ফেললেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? ভারতের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া তিনটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের মধ্যে একটিকে ভারতীয় সেনা গুলি করে নামানোর কিছু ক্ষণের মধ্যেই পাকিস্তানকে বলতে শোনা গেল, যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই!

Advertisement

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত ও পাকিস্তানের শেয়ার বাজারের পরিসংখ্যান ও অর্থনীতির সার্বিক ছবি সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ভারতীয় বায়ুসেনা বুধবার একটি পাক এফ-১৬ ষুদ্ধবিমানকে গুলি করে মাটিতে নামানোর পর বড় রকমের ধস নামে করাচির শেয়ার বাজারে। যার নাম- ‘কেএসই১০০’। এ দিন যার সূচক পড়ে যায় এক লাফে প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ। এই ধস শুধুই এক দিনের ঘটনা নয়। পুলওয়ামা কাণ্ডের দিন (১৪ ফেব্রুয়ারি) থেকেই ধস নেমেছে করাচির শেয়ার বাজারে। ১৪ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি, এই ১৪ দিনে সূচক নেমেছে ৩ হাজার ২৫ পয়েন্ট বা ৭.৪৬ শতাংশ। আর এই মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত ৮ শতাংশ। দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের যখন এই অবস্থা, তখন ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামা সম্ভব নয় পাকিস্তানের পক্ষে।

ওই একই সময়ে করাচির শেয়ার বাজারের তুলনায় ভারতের শেয়ার বাজারের (বিএসই) ধসের পরিমাণ কিন্তু অনেকটাই কম। ভারতের বাজারে ধস নেমেছে ২০৫ পয়েন্ট। শতাংশের হিসেবে পাকিস্তানের তুলনায় নগণ্যই, ০.৫৭। বুধবার ভারতের শেয়ার বাজারেও ধস নেমেছে, কিন্তু সেটাও পাকিস্তানের তুলনায় অনেকটাই কম। ৫০ পয়েন্ট।

Advertisement

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘‘এক বছরের হিসেবে কিন্তু ভারত আর পাকিস্তানের শেয়ার বাজারের ধসের পরিমাণটা দাঁড়িয়েছিল একই জায়গায়। আধ শতাংশ। অথচ পুলওয়ামা কাণ্ডের পর গত দু’সপ্তাহে পাকিস্তানের শেয়ার বাজারে যতটা ধস নেমেছে, আর তা যতটা গতিবেগে নেমেছে, ভারতের শেয়ার বাজার ততটা পিছিয়ে পড়েনি। ততটা দ্রুতও নামেনি।’’

আরও পড়ুন- সন্ত্রাসে মদত দিয়ে ভাবমূর্তি খুইয়েছে পাকিস্তান, চিনও পাশে নেই: প্রাক্তন পাক রাষ্ট্রদূত​

আরও পড়ুন- যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই, সুর নরম করে বলল পাকিস্তান

ঘটনাচক্রে, পুলওয়ামা কাণ্ড আর তার পরের ঘটনাগুলি যখন ঘটছে, ঠিক তখনই ১২০০ কোটি ডলারের ঋণ মকুব করার জন্য আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের (আইএমএফ) সঙ্গে কথা বলছে পাকিস্তান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের অর্থনীতির নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছে। দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার এ বছরে নামতে নামতে ২.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। যা গত ৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর ফলে, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারকে যাবতীয় উন্নয়নমূলক কাজের খরচ কমাতে হয়েছে। দাম দ্রুত পডে়ছে পাকিস্তানি মুদ্রার। তার ফলে, পণ্যের অভ্যন্তরীণ বাজার কমে গিয়েছে, পাক নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে বলে।

অন্য দিকে, ভারতের অর্থনীতি বেডে় চলেছে দ্রুত গতিতে। বিশ্বে আপাতত সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়ছে ভারতের অর্থনীতি। আর সেটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের পরিসংখ্যান নয়। এই পরিসংখ্যান দিয়েছে বিশ্ব ব্যাঙ্ক। তাদেরই পূর্বাভাস, এই অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার পৌঁছবে ৭.৩ শতাংশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement