(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
আমেরিকা এবং ইরানের শান্তিচুক্তির পথে বাধা এখনই কাটছে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুসারে, বেশ কয়েকটি বিষয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হলেও কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা এখনও রয়ে গিয়েছে। সোমবার ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “অনেক বিষয়েই আমরা (আমেরিকা এবং ইরান) একমত হতে পেরেছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমরা চুক্তি স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি চলে এসেছি।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বার বারই জানিয়েছেন, তিনি কোনও অবস্থাতেই ইরানকে পরমাণু অস্ত্র বানাতে দেবেন না। সেই উদ্দেশ্যে পরমাণু অস্ত্র তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ইরানের উপর চাপ বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। তেহরান অবশ্য বরাবরই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা নয়। এই যুক্তিতে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাবও নাকচ করে দিয়েছে তারা। ইরানের দাবি, পরমাণু প্রশ্নে এখনও তাদের সঙ্গে আমেরিকার কোনও আলোচনা হয়নি। চুক্তির প্রাথমিক রূপরেখা চূড়ান্ত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে বলে দাবি তেহরানের।
অন্য দিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের এক আধিকারিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হরমুজ় প্রণালীতে আমেরিকা নৌ অবরোধ তুলে নিলে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে আপত্তি নেই ইরানের। সে ক্ষেত্রে হরমুজ় প্রণালীও সব দেশের জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিতে রাজি তারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্স’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, শান্তিচুক্তির প্রাথমিক শর্তগুলি মেনে নেওয়ার বিষয়ে রাজি হয়েছে আমেরিকা এবং ইরান। কিন্তু এই বিষয়ে দুই দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এখনও সবুজ সঙ্কেত দেননি বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তেহরানের আবার বক্তব্য, যুদ্ধ পুরোপুরি থামানোর প্রাক্শর্ত হিসাবে আমেরিকা আশ্বাস দিয়েছিল যে, ইরানের যে সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, সেগুলি ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা রাখেননি বলে অভিযোগ। তাই আমেরিকার দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়িত না-হলে শান্তিচুক্তিতে রাজি নয় ইরান।
রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে কোনও তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই। শনিবার (স্থানীয় সময় অনুযায়ী) তিনি দাবি করেন, চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। শুধু ঘোষণার অপেক্ষা। ওই মন্তব্যের পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সমঝোতার দায়িত্বে থাকা মার্কিন প্রতিনিধিদলকে তাড়াহুড়ো না-করার নির্দেশ দিয়ে রাখলেন তিনি।