রুশ হামলায় বিধ্বস্ত কিভের একটি বহুতল। ছবি: সংগৃহীত।
রাতভর ইউক্রেনের কিভ অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। আর তাতে ব্যবহার করেছে আধুনিক দূরপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ওরেশনিক। ওই হামলায় এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন চার জন। ইউক্রেনে হামলার (২০২২) পর থেকে এই নিয়ে তৃতীয় বার ওরিশনিক ব্যবহার করল রাশিয়া।
আমেরিকা জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র একাধিক পরমাণু অস্ত্র বহন করতে সক্ষম। ইউক্রেনের যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, তার ওরেশনিক প্রতিরোধ করার ক্ষমতা নেই। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জ়েলেনস্কি জানিয়েছেন, সেন্ট্রাল ইউক্রেনের বিলা সেরকভা শহরে এই হামলা চালানো হয়েছে। রাশিয়ার শাস্তি দাবি করেছেন তিনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশ বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎজ় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।
ইউক্রেন বায়ুসেনার দাবি, এক রাতে ৬০০টি ড্রোন এবং ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রাশিয়া। ৬০৪টি অস্ত্র তারা গুলি করে নামিয়েছে। তবে সবচেয়ে মারাত্মক ছিল ওরেশনিক। কেন এত ভয়ঙ্কর এই ক্ষেপণাস্ত্র? রাশিয়ার সূত্রেই জানা গিয়েছে, দূর থেকে ছুটে গিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে ওরেশনিক। ৩,০০০ থেকে ৫,৫০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।
২০২৪ সালে ইউক্রেনের দিনিপ্রো লক্ষ্য করে প্রথম বার ওরেশনিক ছুড়েছিল রাশিয়া। সে সময় রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন জানিয়েছিলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রে একাধিক ওয়ারহেড বা মাথা রয়েছে। তবে একসঙ্গে বহু মানুষ নিধন করতে পারে না ওরেশনিক। কারণ তার কোনও মাথায় পারমাণবিক অস্ত্র নেই। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, ওরেশনিকের মাথায় পারমাণবিক অস্ত্রও প্রয়োগ করা সম্ভব। শব্দের চেয়ে ১০ গুণ বেশি গতিবেগে ছোটে ওই ক্ষেপণাস্ত্র। প্রতিপক্ষ বুঝে ওঠার আগেই আঘাত করে লক্ষ্যবস্তুতে।