Protest in Iran

গুলিবিদ্ধ রোগীতে উপচে পড়ছে হাসপাতাল, বাইরে দেহের স্তূপ! ইরানে বিদ্যুতের শকও দেওয়া হচ্ছে প্রতিবাদীদের? নিহত বহু

গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে রাজধানী তেহরানে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। ক্রমে তা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিদ্রোহের আকার নেয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:০২
Share:

ইরানের রাজধানী তেহরানের রাস্তায় বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ। ছবি: এক্স।

বিদ্রোহ, বিক্ষোভের ঝাঁজ যত বাড়ছে, ততই কঠোর হচ্ছে ইরানের দমননীতি। অভিযোগ, প্রতিবাদীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছে। এমনকি, কোথাও কোথাও বিদ্যুতের শকও দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের এমনই বর্ণনা তুলে ধরেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি। দাবি, গুলিবিদ্ধ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে ইরানের হাসপাতালগুলিতে। বাইরে পড়ে রয়েছে লাশের স্তূপ।

Advertisement

গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে রাজধানী তেহরানে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। ক্রমে তা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিদ্রোহের আকার নেয়। রাজধানী ছাড়িয়ে দেশের বহু শহরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তাপের আঁচ। ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি (প্রাক্তন শাসক রেজা শাহ পাহলভির পুত্র) জনগণকে গণপ্রতিবাদে নামার ডাক দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এর পরেই শুরু হয় কঠোর দমন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শুক্রবার রাত থেকে প্রতিবাদীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালাতে শুরু করে পুলিশ। উঁচু বহুতলের ছাদ থেকে নীচে নির্বিচারে গুলি চালানো হতে থাকে।

মার্কিন মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এখনও পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা প্রায় ১২০। আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ বেশ কয়েক দিন ধরে। তেহরানের ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা সিএনএন-কে জানিয়েছেন, তিনি হাসপাতালের বাইরে মৃতদেহের স্তূপ দেখেছেন। এক জনের দেহের উপর আর এক জনের দেহ ফেলে রাখা হয়েছে। হাসপাতালগুলিতে রোগীর সংখ্যা এত বেড়ে গিয়েছে যে, আর জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ রোগীই গুলিবিদ্ধ।

Advertisement

তেহরানের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনের কঠোরতার বর্ণনা করছেন। তাঁদেরই কেউ কেউ দাবি করেন, এক বৃদ্ধের পায়ে ৪০টি গুলি বিঁধে ছিল। হাতও ভেঙে গিয়েছিল। তাঁকে নিয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরেও লাভ হয়নি। কোথাও শয্যা ফাঁকা পাওয়া যায়নি। তেহরানের পরিস্থিতিকে ‘চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা’ হিসাবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

ইরানের এক সমাজকর্মী দাবি করেছেন, বিদ্যুতের শক দিয়ে এক প্রতিবাদীকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সেই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন। যত ক্ষণ না তাঁর প্রাণ যায়, তত ক্ষণ শক দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদীদের উপর কাঁদানে গ্যাসও ছোড়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওই সমাজকর্মী। অধিকাংশেরই বক্তব্য, এই ধরনের উত্তাল পরিস্থিতি তাঁরা ইরানে আগে কখনও দেখেননি। ২০২২ সালে নারীদের অধিকারের দাবিতেও ইরানে বিপুল বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। সে বারও কঠোর দমননীতি প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছিল সরকার। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ বারের পরিস্থিতি আরও ভয়ানক। খামেনেইকে ক্ষমতার কুর্সি থেকে এ বার অপসারণ করা যাবে বলে আশাবাদী প্রতিবাদীরা। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়া তা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে ইরানে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের জনগণকে সাহায্য করতে তিনি প্রস্তুত। সূত্রের দাবি, মার্কিন বাহিনী হামলার ছকও কষে রাখছে। তবে এখনও ইরানে মার্কিন হামলা প্রসঙ্গে কোনও নিশ্চিত ঘোষণা আসেনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement