ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে যে বিক্ষোভ চলছে, তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে আমেরিকা। আগেই সেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যে মার্কিন বাহিনী ইরানে হামলার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। চলছে আলোচনা। হামলা করা হলে কোন কোন ঘাঁটিকে নিশানা করা হবে, তা-ও চিহ্নিত করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সরকারি সূত্র উল্লেখ করে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের পরিস্থিতি দিন দিন উত্তপ্ত হচ্ছে। গত দেড় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক ভাবে সেখানে বিক্ষোভ চলছে। প্রাথমিক ভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুত তা দেশের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সার্বিক প্রতিবাদের আকার নেয়। খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন বহু মানুষ। ইরানের প্রশাসন কঠোর ভাবে বিক্ষোভ দমনের বার্তা দিয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ মোভাহেদি আজ়াদ শনিবারই জানিয়ে দেন, বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লার শত্রু’ হিসাবে দেখা হবে। এর জন্য ইরানে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রশাসনের গুলিতে ইরানে বহু প্রতিবাদীর মৃত্যুর খবরও মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প শনিবার সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘ইরান স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে। হয়তো এর আগে কখনও এমন ভাবে তাকায়নি। আমেরিকা তাদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত।’’
আরও পড়ুন:
রিপোর্টে দাবি, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর যদি অতর্কিতে ইরানে হামলা চালানোর প্রয়োজন পড়ে, তবে কী ভাবে কোন পথে অভিযান চলবে, তা নিয়ে প্রাথমিক ভাবে হোয়াইট হাউসে আলোচনা হয়েছে। কোন কোন জায়গাকে নিশানা করা হবে, তা-ও চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে আকাশপথে বড় হামলার পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন বাহিনীর। সে ক্ষেত্রে ইরানের সেনাঘাঁটিগুলিকে নিশানা করা হবে। তবে আর এক আধিকারিক জানান, হামলার ধরন সম্পর্কে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অস্ত্রশস্ত্রও প্রস্তুত করা হয়নি। শুধু আলোচনা হয়েছে। একাংশের দাবি, এগুলি সাধারণ পরিকল্পনার অন্তর্গত। এই মুহূর্তে ইরানে হামলা হচ্ছে না।
বিক্ষোভ দমন করতে ইরানে দু’দিন ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রেখেছে খামেনেই প্রশাসন। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, শুক্রবার পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা ৬৫। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, প্রশাসনের দমনে মৃতের সংখ্যা ২০০-র গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। ট্রাম্পকে ‘অহংকারী’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন খামেনেই। দাবি, বিশ্বের সকল অহংকারী শাসকের মতো ট্রাম্পের পতনও নিশ্চিত। তবে ইরানের বিক্ষোভে এখনও রাশ টানা যায়নি।