Advertisement
E-Paper

১৭০ বছর পরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, ফের দেউলিয়া ব্রিটিশ ও ভারতীয় ইতিহাস খ্যাত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

বেশ কয়েকটি বিদ্রোহের পরে ১৮৫৭ সালে হয় সিপাহি বিদ্রোহ। তার পরে কোম্পানির শাসন সরাসরি যায় ব্রিটিশ সরকারের হাতে। তখন থেকেই ভারতে সরাসরি ভাবে শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ রাজত্ব।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:০৭

ইংরেজদের সংস্থা ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। যে সংস্থা ভারতে বাণিজ্য করতে এসে উপনিবেশ স্থাপন করে দেশ শাসন করেছিল। সেই কোম্পানি ফের লাটে উঠল। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বন্ধ হয়ে গেল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। প্রথমবার বন্ধ হয়েছিল প্রায় ১৭০ বছর আগে।

বেশ কয়েকটি বিদ্রোহের পরে ১৮৫৭ সালে হয় সিপাহি বিদ্রোহ। তার পরে কোম্পানির শাসন সরাসরি যায় ব্রিটিশ সরকারের হাতে। তখন থেকেই ভারতে সরাসরি ভাবে শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ রাজত্ব। কোম্পানি বিশ্ব বাণিজ্যে পরিবর্তন এনেছিল ঠিকই কিন্তু ভারত-সহ এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চালিয়েছিল ‘শোষণ’। বেঙ্গল প্রভিন্স-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কোম্পানির কারণে হয়েছিল দুর্ভিক্ষ। তাতে মৃত্যু হয়েছিল অন্তত তিন কোটি মানুষের। তাই পরবর্তীকালে কোম্পানির উত্তরাধিকারী যেই হোন না কেন সংস্থার নামের সঙ্গে অদৃশ্য ভাবে জুড়ে থাকত ‘নেতিবাচক’ শব্দ।

অবশ্য প্রায় ১৫২ বছর আগেই কারবার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির। ২০১০ সালে ব্রিটিশ-ভারতীয় ব্যবসায়ী সঞ্জীব মেহেতা কোম্পানির নামের স্বত্ত্ব কিনে উচ্চমানের চা ও মুখরোচক খাবারের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। সেই সময় বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল খবর। যার শিরোনাম ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মালিক এক ভারতীয়। ব্রিটিশ কোম্পানি কিনে নেওয়াকে ‘প্রতিশোধ’ হিসাবেই উল্লেখ করা হত। অবশেষে দেউলিয়া হয়ে সেই কোম্পানিও বন্ধ হয়ে গেল। জানা গিয়েছে, সঞ্জীবের মূল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লিমিটেড ও ‘ইস্ট ইন্ডিয়া’ নামাঙ্কিত বেশ কিছু সংস্থা ঋণ ও করে জর্জরিত। তার সঙ্গে রয়েছে কর্মচারীদের বেতন দিতে না পারা। সব মিলিয়ে দেউলিয়া হয়ে বন্ধ কোম্পানি।

১৬০০ সালে পথ চলা শুরু করে নীল, নুন, মশলা, চা, রেশমের বাণিজ্য করা ও প্রায় আড়াই লক্ষ ব্যক্তিগত সেনা রাখা ‘দাপুটে’ কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে ২০১০ সালে এক ভারতীয়ের হাত ধরে চা, মশলা, মিষ্টি বিক্রি ‘নৈতিক’ ভাবে পথ চলা শুরু করলেও ফের বন্ধ হয়ে গেল। প্রসঙ্গত, ইতিহাস থেকে জানা যায় আরও একটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল। তবে ওই সংস্থা ছিল ফরাসিদের। ১৬৬৪ সালে শুরু হওয়া সেই সংস্থা ভারতেও ব্যবসা করেছিল। ১৭৬৯ সালে কারবার বন্ধ করে ওই সংস্থা। কোম্পানির সমস্ত সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে ফরাসি সরকার। ১৭৯৪ সালে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় কোম্পানি।

যখন এক ভারতীয় ব্যর্থ তখন ঐতিহাসিক নথি নিয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে কার্যত ‘যুদ্ধে’ নেমেছেন আর এক ভারতীয়। মধ্যপ্রদেশের সীহোরের ৬৩ বছর বয়সি বিবেক রুথিয়ার দাবি, ১৯১৭ সালের ৪ জুন তাঁর দাদু শেঠ জুম্মালালের কাছ থেকে ব্রিটিশ সরকারের কাজ পরিচালনার জন্য ৩৫,০০০ টাকা ধার নিয়েছিলেন ভোপালের তৎকালীন রাজনৈতিক এজেন্ট ডব্লিউএস ডেভিস। সেই টাকা শোধ দেয়নি ব্রিটিশ সরকার। বর্তমানে সুদ বেড়ে বকেয়া হয়েছে কয়েক কোটি। ওই টাকা আদায়ের জন্য যুক্তরাজ্যের সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার চিন্তাভাবনা করছেন তিনি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy