তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই কাজ শুরু করে দিলেন চন্দ্রশেখর জোসেফ ‘তলপতি’ বিজয়। জারি করে দিলেন প্রথম সরকারি নির্দেশিকা। মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের স্বাক্ষর করা প্রথম নির্দেশিকায় তিনটি বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। এক, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, দুই, মাদক দমন এবং তিন, নারী সুরক্ষা।
রবিবার চেন্নাইয়ের নেহরু স্টে়ডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন তামিলাগা ভেট্টি কাজ়াগম (টিভিকে) প্রধান বিজয়। তামিলনাড়ুতে টিভিকে-র নতুন সরকার ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক ন্যায়ের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলেও জানান তিনি। শপথ গ্রহণের দিনেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিজের প্রথম নির্দেশিকায় নতুন সরকারের পরিকল্পনা স্পষ্ট করে দেন তিনি। বিজয়ের জারি করা প্রথম নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে, ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। মাদক সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলায় একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ বাহিনী এবং একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শপথের পরে তাঁর সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনারও আভাস দিয়েছেন বিজয়। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানীয় জলের মতো বিষয়গুলির উপর তাঁর সরকার আরও বেশি গুরুত্ব দেবে। কৃষক এবং মৎস্যজীবীদের স্বার্থও যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, তা-ও নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি। শপথের পরে তামিলনাড়ুবাসীর উদ্দেশে বিজয় বলেন, “আমি কোনও রাজপরিবার থেকে উঠে আসিনি। এক অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের সন্তান হয়ে আমি আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি। দারিদ্র এবং ক্ষুধার জ্বালা আমি খুবই ভাল করে বুঝি। অনেক প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে আমাকে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপমানিত-লাঞ্ছিত হয়েছি।”
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে সরকারেরও সমালোচনা করেন বিজয়। তাঁর অভিযোগ, ডিএমকে সরকার তামিলনাড়ুর কোষাগার ফাঁকা করে দিয়েছে। নতুন সরকারের দায়িত্বগ্রহণের সময়ে তামিলনাড়ুর উপর ১০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে বলেও জানান তিনি। বিজয় প্রতিশ্রুতি দেন, তাঁর সরকার সাধারণ জনতার এক পয়সাও অপচয় করবে না। সরকারি কোষাগারের সম্পত্তি কাউকে লুট করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য অন্তত ১১৮টি আসনের দরকার ছিল। কিন্তু বিজয়ের দল টিভিকে একক ভাবে সেই জাদুসংখ্যা স্পর্শ করতে পারেনি। তারা পেয়েছে ১০৮টি আসন। তার মধ্যে বিজয় নিজে জিতেছেন দু’টি আসনে। অর্থাৎ, টিভিকে-র প্রকৃত জয়ী প্রার্থীর সংখ্যা ১০৭। এ অবস্থায় বিজয়ের দলকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে কংগ্রেস, সিপিএম, সিপিআই-সহ পাঁচটি দল। রবিবার তাঁর শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি-সহ অন্য শরিক দলের নেতারা।